মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিতে নিহত এক বাংলাদেশি জেলে

বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বাংলাদেশি ফিশিং ট্রলারে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও দুই জেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় নিহত জেলের মরদেহসহ একটি ট্রলারে আহতদের ফেরত দিয়েছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। পরে বিকেলে বাকি মাঝিমাল্লা ও বোট ফেরত আসে।

টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমের মৌলভীর শিল নামের বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এ ঘটনা ঘটে। সে সময় অন্তত ৭০ মাঝিমাল্লাসহ ছয়টি ফিশিং ট্রলার নিয়ে যায় মিয়ানমারের নৌবাহিনী।

ট্রলার মালিকরা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জেলে মো. ওসমান গনি শাহপরীরদ্বীপের কোনারপাড়া এলাকার বাচু মিয়ার ছেলে। তিনি শাহপরীরদ্বীপের বাজারপাড়া এলাকার সাইফুল কোম্পানির মালিকানাধীন ট্রলারের জেলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত দুই জেলেও ওই ট্রলারের। তবে তাদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধরে নিয়ে যাওয়া অন্য পাঁচটি ট্রলারের মালিক হলেন শাহপরীরদ্বীপের মিস্ত্রিপাড়ার মুসলিম মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান, মৃত আলী হোছনের ছেলে আবদুল্লাহ, তার ভাই আতা উল্লাহ ও উত্তরপাড়ার ছৈয়দ মাঝির ছেলে মো. আছেম।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে বাংলাদেশের মাছ ধরার নৌকায় মিয়ানমারের নৌবাহিনী গুলি করে এবং ছয়টি বোট জেলেসহ আটক করে। গুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে জেলেদের পরিবারের সদস্যরা গতকাল সকালে বিষয়টি জানান। পরে মিয়ানমার নৌবাহিনী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে একটি ট্রলারসহ জেলেদের হস্তান্তর করে। গতকাল আড়াইটার দিকে নিহত জেলের মরদেহ ও ১১ জন জেলে নিয়ে একটি ট্রলার শাহপরীরদ্বীপ জেটিতে ফিরেছে।

ট্রলার মালিক মতিউর রহমান জানান, প্রথমে নিহত জেলেসহ সাইফুলের মালিকানাধীন ট্রলারটি শাহপরীরদ্বীপ জেটি আসে দুপুর আড়াইটায়। বিকেল ৪টায় অন্য পাঁচটি ট্রলারসহ জেলেরা সেন্টমার্টিন ঘাটে এসেছে। ওখানে জেলেদের সঙ্গে আলাপ করে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশের নৌবাহিনী তথ্য সংগ্রহ করছে। সেন্টমার্টিন থেকে ওই ট্রলারও শাহপরীরদ্বীপ ঘাটে আনা হবে।

আরেক ট্রলার মালিক সাইফুল জানিয়েছেন, সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ করে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সদস্যরা ধাওয়া করে গুলিবর্ষণ করে। এরপর ছয়টি ট্রলারসহ মাঝিমাল্লাদের ধরে নিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যায়। যেখানে তার মালিকানাধীন ট্রলারে গুলিবিদ্ধ তিনজনের মধ্যে একজন মারা যান। গতকাল ওই ট্রলারটি ছেড়ে দিয়েছে।

সাইফুলের মালিকানাধীন ট্রলারের মাঝি নুর হামিদ বলেন, ‘গত ৬ অক্টোবর আমিসহ ১২ জন জেলে নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাই। সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌলভী শিল এলাকায় ১০-১২টি ট্রলার পাশাপাশি অবস্থান করে সাগরে মাছ ধরছিল। এ সময় বুধবার দুপুরে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সদস্যরা একটি স্পিড বোটে এসে গুলি করে তাদের ধাওয়া করে। পরে আটক করে মিয়ানমারে নিয়ে যায়।’

কোস্ট গার্ডের শাহপরীরদ্বীপের দায়িত্বরত কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ না করে) বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন মারা গেছেন। দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মিয়ানমারের নৌবাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর ছয়টি ট্রলার ফেরত এসেছে।

টেকনাফে দায়িত্বরত নৌপুলিশের উপপরিদর্শক আবুল কাসেম জানান, সাগরে গুলিতে নিহত জেলের মরদেহ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।