এলপিজির উৎস সন্ধানে বন্দর

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজিবাহী দুটি জাহাজ নিয়ে আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়ায় নোঙর করা ‘গ্যাস জিএমএস’ ও ‘ক্যাপটেইন নিকোলাস’ নামের এ দুই জাহাজে ৮৬ হাজার টন এলপিজি রয়েছে। ইরান থেকে এই জাহাজ পণ্য লোড করে নিয়ে এসেছে বলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচনায় এসেছে জাহাজ দুটি।

এ দুই জাহাজ ইরান থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে বলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আজম জে চৌধুরী। গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আজম জে চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ দুই জাহাজ ইরান থেকে এলপিজি লোড করে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু ইরান থেকে এলপিজি আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য যেহেতু ডলারকেন্দ্রিক, তাই ইরান থেকে আমদানি করা হলে আমরা যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়তে পারি। তখন আমাদের অন্যান্য পণ্যের আমদানি-রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।’

এ অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর এম ফজলার রহমান চার সদস্যের (চট্টগ্রাম বন্দর, নৌবাণিজ্য অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কুতুবদিয়ায় অবস্থান করা জাহাজে গিয়ে ওঠেন। দুই জাহাজের পরিদর্শন শেষ করতে তাদের রাত ২টা পর্যন্ত সময় লেগে যায় বলে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

জাহাজের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কী পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন মোস্তাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা জাহাজ দুটি সর্বশেষ কোন ১০টা বন্দরে ভিড়েছে, তা যাচাই করে দেখলাম। কিন্তু কোথাও ইরান থেকে এসেছে এমন তথ্য পাইনি।’

একই মন্তব্য করেন নৌবাণিজ্য দপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জাহাজ দুটি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় পণ্য লোডিং হয়েছে, তা যাচাই করে দেখেছি। এর মধ্যে “ক্যাপটেইন নিকোলাস” ওমান থেকে এবং “গ্যাস জিএমএস” আবুধাবি পোর্টের বহির্নোঙর থেকে এলপিজি লোড করা হয়েছে। কোনো জাহাজ ইরান থেকে আসেনি।’

জানা যায়, ‘ক্যাপটেইন নিকোলাস’ জাহাজে ৪২ হাজার ৯৭৫ টন এবং ‘গ্যাস জিএমএস’ জাহাজে ৪৪ হাজার টন এলপিজি এসেছে। এসব এলপিজি কোনো একক কোম্পানি আমদানি করেনি। চার থেকে পাঁচটি গ্রুপ সমন্বিতভাবে আমদানি করে।

এ বিষয়ে কথা হয় ক্যাপটেইন নিকোলাস জাহাজের এজেন্ট এবং সিওয়েভ মেরিন সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী শেখ মোহাম্মদ ছামিদুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরান থেকে কোনো এলপিজি ক্রয় করিনি। আমরা ওমান থেকে পণ্য লোড করেছি।’

জাহাজ দুটি গত ৬ ও ৭ অক্টোবর কুতুবদিয়ায় এসে পৌঁছেছে। এখন অন্য জাহাজে খালাস করার কাজ চলছে। ওই জাহাজ থেকে ভাটিয়ারিতে থাকা ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হবে এ এলপি গ্যাস।