বেড়েছে যাত্রীর চাপ বেশি ভাড়া আদায়

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটিতে মহাসড়কে যাত্রীর ভিড় বেড়েছে। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ঢাকা থেকে মাদারীপুরের শিবচরগামী যাত্রীরা এ অভিযোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূজার ছুটিতে অনেকেই বাড়িতে যাওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশমুখখ্যাত এই সড়কে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বাড়ি ফিরতে ভিড় করেন যাত্রীরা। এ সুযোগে পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এগুলো তদারকি করার জন্য মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ নেই।

শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের কুতুবপুর, পাঁচ্চর, বন্দোরখোলা, সূর্যনগর বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে যাত্রীর প্রচ- ভিড়। দুপুরের পর থেকে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে বাসস্ট্যান্ড থেকে গাড়িতে সিট না পেয়ে শত শত যাত্রী মহাসড়কের পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

অন্যদিনের তুলনায় যানবাহনের জটলা বেশি থাকায় থেমে থেমে চলছে গাড়ি। হিন্দুধর্মের মানুষের সঙ্গে ছুটি পেয়ে অনন্য ধর্মের মানুষও গ্রামে ছুটছেন। অতিরিক্ত মানুষের চাপে পরিবহনগুলোতে অন্যদিনের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই গ্রামে ফিরছেন মানুষজন। মহাসড়কের কোথাও পুলিশ না থাকায় পরিবহন শ্রমিকরা ভাড়া বেশি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাদারীপুরের শিবচরগামী আনন্দ পরিবহনের যাত্রী কাজী মুরাদ বলেন, ‘আমরা আগে ২০০ টাকা দিয়ে গুলিস্তান থেকে আসতাম। আজ শিবচরের ভাড়া ৩০০ টাকা নিয়েছে। এটা তাদের খামখেয়ালিপনা। প্রশাসনের উচিত তাদের ধরে আইনের আওতায় আনা।’

পাঁচ্চর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহন থেকে নেমে আসা যাত্রী আকলিমার সঙ্গে। তিনি জানান, ছুটিতে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন। মানুষের ভিড় ছিল। ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা নিয়েছে। এগুলো দেখার মতো কেউ নেই।

ইলিয়াস মোল্লা নামে আরও এক যাত্রী বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ ধরে যাত্রাবাড়ীতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। ঈদের ছুটির মতো মানুষ বাড়ির দিকে ছুটছে। হাজার হাজার যাত্রী। ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ করে নিচ্ছে, তাও সিট পাওয়া যাচ্ছে না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনন্দ পরিবহনের এক চালক বলেন, এখন যাত্রীর অনেক চাপ। তাই ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অন্য সময় তেমন একটা যাত্রী হয় না। তখন সেতুর টোলই দিতেই পারি না।’

শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি শাকিল আহম্মেদ বলেন, ‘গতকাল থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় পুলিশ আছে। অতিরিক্ত ভাড়া যেন না নিতে পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’