জোরপূর্বক জমি দখল, আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ

রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে এলাকায় জোরপূর্বক অন্যের সম্পত্তি দখল ও ভাড়াটিয়াদের ভয় ভীতি দেখিয়ে প্রতিমাসের ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে সোহেল রেজা ওরফে ইদনের বিরুদ্ধে।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ ওঠে।

সম্পত্তির মালিক শেখ নুরুর রহমান ওরফে এছামের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন এডভোকেট তানজিল আহমেদ সানি।

ভিডিও কনফারেন্সে অভিযোগ করে এছাম বলেন, দক্ষিনখান থানাধীন আশকোনা হজ্জক্যাম্প রোড এলাকায় আমার এবং আমার বোনের ক্রয়কৃত সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তির বোনের অংশ সোহেল রেজা নামে একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে আমার বোনের জমি পাশাপাশি আমার জমিও জোরপূর্বক ভাবে দখল ও ভাড়াটিয়াদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভাড়াটিয়াদের প্রতিমাসের ভাড়া আদায় করে নিয়ে যায় সোহেল রেজা। এমন ঘটনা বাধা দিলে আমার পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে এছামের পক্ষে এডভোকেট তানজিল আহমেদ সানি বলেন, এছাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী। বাংলাদেশে তার বাড়ি দেখাশোনা করে ছোট ভাই এহছানুর রহমান সবুজ। সোহেল রেজা (ইদন) নানা সময় নানাভাবে সবুজকে হুমকি দেয়। ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর সোহেল রেজা তার লোকজন নিয়ে বাড়ির নীচ তলায় থাকা জমজম হোটেলের মালিককে মারধর করে এবং তাদের ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাট থেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বের করে দেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে সোহেল সবুজকে ভয়ভীতি ও প্রাননাশের হুমকি দেয়।

 এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর দক্ষিনখান থানার সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়।

তিনি বলেন, জিডি করায় সোহেল ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে ৩০০ টাকার ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে এবং একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। যা সম্পূর্ণ সবুজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ১৯ মে জিডি করা হয়েছে। সোহেলের বিরুদ্ধে ২০২২ সাল থেকে বহুবার আইনের আশ্রয় নিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি ৷ তার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সোহেল রেজার বোনের জামাই পুলিশের এএসপি বাহাউদ্দিন ভূইয়া। যখনই আইনের সাহায্যের জন্য যাওয়া হয় তখনই কালো ছায়ার মত এএসপি বাহাউদ্দিন ভূইয়া প্রভাব খাটায়। পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে আমাকে কোনোভাবে আইনের সাহায্য নিতে দেয় নাই বরং বারবার সোহেল রেজাকে কোনো না কোনোভাবে বাঁচিয়ে নেন। আইনের মাধ্যমে কোনো সুফল পাচ্ছি না। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে থাকা ও ভাড়াটিয়াদের থেকে ভাড়া আদায় করেন। 

এই আইনজীবী আরও বলেন, দায়িত্বরত এএসপি বাহাউদ্দিন ভূইয়ার কারণে ভুক্তভোগী এছামরা থানা পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পায় নাই। পরবর্তীতে কোনো সুরাহা করতে না পেরে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি এবং বর্তমানে পলাতক আছে। এছাড়াও সোহেল ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর হিসাবে কাজ করেছে যার প্রেক্ষিতে ছাত্র আন্দোলনে অনেক ছাত্র আহত এবং নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলারও আসামি করা হয়েছে।