স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সুস্থ শরীরের পাশাপাশি সুস্থ মনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রত্যেকেই কর্মজীবী এবং জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকি। কর্মক্ষেত্র আমাদের জীবন ও জীবিকার নির্ভরযোগ্য স্থান। কর্মের মাধ্যমে আমরা নিজে বাঁচি এবং পরিবারকে বাঁচাই। কর্মক্ষেত্র সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। আর এ স্বাস্থ্যের একটি প্রধান অংশ হলো মানসিক স্বাস্থ্য। মন ও মানসিক স্বাস্থ্য সঠিক না থাকলে মানুষের কর্মস্পৃহা, কর্মোদ্দীপনা বিনষ্ট হয়ে যায়, হয়ে পড়ে কর্মহীন, কর্মচ্যুত এবং হারায় তার চাকরি। ফলত তার ও তার পরিবারের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
পৃথিবীতে শুধু উদ্বিগ্নতা (Anxiety) ও বিষণœতা (Depression) এর কারণে প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন কর্মদিবস নষ্ট হয়। কোনো কোনো কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণ (যেমন হয়রানি, বুলিং, অপদস্থতা, অসহযোগিতা) ইত্যাদি কারণে মানুষের মনে প্রচুর মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। ফলে তার মধ্যে সৃষ্ট হয় হীনমন্যতা, মানসিক চাপজনিত সমস্যা, উদ্বিগ্নতা (Anxiety), বিষন্নতা (Depression), মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্ব সমস্যা, অন্যান্য গুরুতর মানসিক রোগ, বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা তৈরি করে। কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হলে আবেগগত সমস্যা ও মনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে। কর্মক্ষেত্রে এসব মানসিক প্রতিকূলতা একজন ব্যক্তি ও পরিবারকে পথে নামিয়ে দিতে পারে। বিষয়টি আমাদের দেশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, আমাদের দেশে একটি পরিবারে সাধারণত এক বা দুজন কর্মজীবী মানুষ থাকেন। কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন ও নিশ্চয়তা বিধান ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও কর্মক্ষেত্রে সবার সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা।
কর্মক্ষেত্রে সুন্দর মানসিক স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তায় করণীয়
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সবার ইতিবাচক মনোভাব। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিয়ম, আলাপ-আলোচনা, খাবার গ্রহণ, পারিবারিক বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে মনের কষ্টগুলো দূর করা যেতে পারে। সহকর্মীর প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ। সহকর্মীরা একে অপরের বন্ধু হবেন, যাতে একে অন্যের সাহায্য গ্রহণে দ্বিধান্বিত না হন। কোনো সহকর্মীকে বুলিং, হেনস্তা, অপমান, অপদস্থ, ছোটজ্ঞান না করা। সহকর্মীর দুঃখ, কষ্ট, বেদনাকে শেয়ার করা ও সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা। কর্মক্ষেত্রে কিছু বিনোদন, সংস্কৃতি চর্চা, সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্ভব হলে সহকর্মীর মধ্যে মানসিক রোগের লক্ষণ দেখা গেলে তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। একটি সুস্থ জীবনের জন্য একটি সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ অপরিহার্য। আমাদের মানসিক চাপ মুক্ত থাকা, হাসিখুশি থাকাসহ একে অপরের সহমর্মী হওয়া প্রয়োজন। এতে কর্মজীবী বাঁচবেন, বাঁচবে তার পরিবার। সবাই ভালো থাকুন।