আলোচিত ‘দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ’ প্রকল্পের ব্যয় ৬ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা ব্যয় কমানো হচ্ছে। ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় ১০ গুণ বৃদ্ধি করে ১৮ হাজার কোটি টাকা করা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক।
পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ও সম্প্রতি প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ২০১০ সালে ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল ৮১৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়ন ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের জুন মাসে।
পরবর্তী সময়ে ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমবার ৩ বছর বাড়িয়ে ২০১৬ সাল পর্যন্ত করা হয়। এরপর প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ১ লাফে ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজর ৯১৯ কোটি এবং এডিবির ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়ায় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।
পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় তিন বছর বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে কাজের পরিধি এবং ডিজাইন প্যারামিটার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনায় প্রকল্পের ব্যয় ৩৭ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা কমিয়ে ১১ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা করা হয়েছে।
বাদ যাচ্ছে রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ : সর্বশেষ অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) দোহাজারী থেকে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত মোট ১২৮ কিলোমিটার ভূমি অধিগ্রহণসহ রেল ট্র্যাক নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণসহ ২৮ কিলোমিটার রেল ট্র্যাক নির্মাণ অংশ বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্পটির বিষয়ে সম্প্রতি পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, কক্সবাজার গুনদুম প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার আগে গভীরভাবে চিন্তা করা হয়নি। কেননা তখন বলা হয়েছিল এটি বাস্তবায়ন করা হলে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো গুনদুমের ওপারে মিয়ানমারে শুধু পাহাড়ি এলাকা। সেখানে ওপারে রেললাইন তৈরির কোনো পরিকল্পনাও নেই। তাহলে এত টাকা ব্যয় করে অপরিকল্পিত প্রকল্প নেওয়ার কী প্রয়োজন ছিল।
গুনদুম পর্যন্ত রেললাইন বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে রামু-গুনদুম অংশের জন্য অর্থায়ন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া মিয়ানমারে যে সংঘাতময় অস্থির পরিস্থিতি চলছে সেখানে ট্রান্স এশিয়ান রেল সংযোগ স্থাপন আপাতত সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের নিজস্ব তহবিলের বিপুল অঙ্কের ব্যয় করে গুনদুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করাটা যৌক্তিক হবে না। এটা বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাদ দেওয়া হচ্ছে।