গাজীপুরের শ্রীপুরে বরমী-মাওনা-কাওরাইদ সড়কের বরমী বাজার এলাকায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের এক বছর পার হলেও তা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর এক পাড়ে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি মানুষের কাজে আসছে না। স্থানীয়রা বাঁশের মাচা আর বালুর বস্তা ফেলে সেতুতে ওঠানামা করেন।
স্থানীয়রা জানান, জমি অধিগ্রহণ-জটিলতায় সেতুর এক পাড়ের পাইটালবাড়ী এলাকায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় এই সেতুর সুফল পাচ্ছেন না পথচারী স্থানীয় বাসিন্দারা।
বরমী ইউনিয়নের বরমী বাজারের পাশে মাটিকাটা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুর উত্তর পাশে বরমী বাজারের কাঠমহল। দক্ষিণ পাশে পাইটালবাড়ী এলাকা। পাইটালবাড়ীর অংশে সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বরমী ৪০০ বছরের পুরাতন বাজার। এর আশপাশের চারটি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ এ বাজারে কেনাকাটা করেন। বুধবার বরমীর সাপ্তাহিক হাটবার। এ দিন যানজটে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু নির্মাণ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ রয়েই গেছে। এখন কোটি কোটি টাকায় নির্মিত এ সেতু চটপটি বিক্রেতা আর আড্ডাবাজদের দখলে থাকে।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুটি নির্মাণ করে। এর দৈর্ঘ্য ৯৭ দশমিক ৩৪ মিটার। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়। ২ বছর ১০ মাসের মাথায় নির্মাণকাজ শেষ হয়। মেসার্স আরপি কনস্ট্রাকশন ও এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে দুটি প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করে। সেতুর জন্য এক পাশে পাইটালবাড়ী এলাকায় এক একর ৩৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণ করা ওই জমিতে ১৭টি পরিবার বসবাস করছে।
পাইটালবাড়ী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ এক বছরের বেশি সময় আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু পাইটালবাড়ী এলাকায় সড়ক তৈরি করা হয়নি। জমি অধিগ্রহণ-জটিলতা নিরসনে বারবার উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে জটিলতা রয়েই গেছে। জমির মালিকদের টাকা না দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকরা টাকার জন্য সওজ অফিসে ঘুরছেন। তারা টাকা না পেলে নিজেদের জমি ছাড়বেন না। তাদের ক্ষোভ, সেতু নির্মাণের আগেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো পরিবার অধিগ্রহণের টাকা পায়নি।
বরমী বাজার বণিক সমিতির সদস্য তালুকদার আবুল হোসাইন বলেন ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি অল্প কাজ বাকি থাকার কারণে এটি এখনো মানুষ ব্যবহার করতে পারছে না, তা খুবই দুঃখজনক। কোটি কোটি টাকার সেতু পড়ে আছে সংযোগ সড়কের কারণে। সেতুর সোলার বাতিগুলো সন্ধ্যা হলেই জ¦লে ওঠে। শুধু সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’
অধিগ্রহণ করা জমির মালিক দেওয়ান লিটন মিয়া বলেন, ‘আগে ভুল করে জমিটি অর্পিত হিসেবে ঘোষণা করে ভূমি অফিস। এটা ভূমি অফিসের ভুল। জমির সব কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। সরকারি লোকজনের ভুলের কারণে আমরা খেসারত দিচ্ছি।’ তিনি বলেন ‘অধিগ্রহণের টাকা না পেলে ভূমি মালিকরা তাদের ভূমি ছেড়ে যাবেন না।’
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম শরিফুল আলম বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণে প্রয়োজনীয় সব টাকা আমরা ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে হস্তান্তর করেছি। কিন্তু অধিগ্রহণে নানা জটিলতা দেখা দিলে তা এখনো সমাধান হচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণের ঝামেলা সেরে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে সেতুর অসম্পূর্ণ (সংযোগ সড়কের) কাজ শেষ করা যাবে।’