বাফুফে নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। শেষ দিনে সিনিয়র সহসভাপতি পদে তরফদার রুহুল আমিনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াটাই ছিল দিনের আকর্ষণ। এ পদে বর্তমান সহসভাপতি ও বসুন্ধরা কিংসের প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসানের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে দেখা যাবে তাকে। এছাড়া সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেননি ময়মনসিংহ বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান। শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাবিথ আউয়াল। সভাপতি পদে তাই নির্বাচনের মাঠে তাবিথের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখন রয়েছেন মিজানুর রহমান ও শাহাদাত হোসেন। এই দিনে সভাপতি পদে ফরম জমা পড়েছে ৩টি, সিনিয়র সহসভাপতি ২টি, সহসভাপতি ৭টি ও সদস্য পদে ৪০টি। সহসভাপতির লড়াইয়ে ১২টি ফরম কেনা হলেও জমা পড়েছে ৭ জনের। সদস্য পদে ৪৩টি ফরম কেনা হলেও তিনজন জমা দেননি।
তাবিথ আউয়ালকে সমর্থন দিয়ে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেননি রেদোয়ান। সভাপতি পদে তাবিথকে সমর্থন জানিয়েছেন প্রকাশ্যে সভাপতি প্রার্থীতার ঘোষণা জানানো তরফদার রুহুল আমিনও। নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রসঙ্গে এদিন তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম। এরপর তাবিথ আউয়াল দেন। ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনা করে আমি তাকে সভাপতি পদে সমর্থন দিয়েছি, এজন্য সভাপতি পদে মনোনয়ন গ্রহণ করিনি।’ এবার সভাপতি পদ থেকে সরে যাওয়ার পেছনে কোনো চাপ ছিল কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘এবার কোনো চাপ ছিল না। ফুটবলের স্বার্থেই আমি এবার সভাপতি (নির্বাচন) করিনি। ফুটবল ফেডারেশনের পদে না থেকেও কাজ করা যায়। ২০১৬-২০ সাল পর্যন্ত জেলা-বিভাগের ফুটবল নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি।’
আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান সভাপতির পাশাপাশি সহ-সভাপতি মনোনয়নও নিয়েছিলেন। দুই পদের কোনোটিই জমা দেননি এই সংগঠক। এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আমরা ফুটবলের স্বার্থে একটি একক প্যানেলের জন্য কাজ করছি। এজন্য আমি কোনো পদেই জমা দেইনি। আমি মূলত ক্রিকেট সংগঠক। সামনে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন। অন্য ফেডারেশনে থাকলে ক্রিকেট বোর্ডে নির্বাচন করা যাবে না এটা ভেবে সহসভাপতির ফরমও জমা দেইনি।’
বাফুফে ভবনে মনোনয়নপত্র জমা শেষে তাবিথের ভাই তাজওয়ার আউয়াল মিডিয়ার মুখোমুখি হন। তিনি প্রথমেই বলেন, ‘তাবিথ ভাইয়ের পক্ষে আমি ফরম জমা দিলাম। আপনাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে, সরাসরি তাকেই নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশ্ন করতে পারেন।’ তাবিথ আউয়ালের ছোট ভাই তাজওয়ার আউয়াল নিজেও আরামবাগ থেকে বাফুফে নির্বাচনের কাউন্সিলর হয়েছেন। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তার কথা, ‘আমি গতবার নোফেলের কাউন্সিলর ছিলাম। এবার আরামবাগ থেকে হয়েছি। গতবার প্রার্থীদের কোনও প্রশ্ন করিনি। এবার যারা ফোন করছেন তাদের সবাইকে একটা প্রশ্ন করছি আপনি ফুটবলে কী করতে চান। আমার মূল্যবান ভোট দেবো, কিন্তু সেই প্রার্থীর কী পরিকল্পনা জানা দরকার।’