আল্লাহর নেয়ামতের মধ্যে অন্যতম নেয়ামত হলো সন্তানসন্ততি। জীবন-মৃত্যু এবং মানুষকে সন্তান-সন্ততি দেওয়ার মালিক মহান আল্লাহ। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে, যাদের ধন-সম্পত্তির কোনো অভাব নেই, কিন্তু আল্লাহ তাদের কোনো সন্তান দেননি। আবার অনেক মানুষ আছে, দিন আনে দিন খায়, মহান আল্লাহ তাদের অনেক সন্তান দান করেছেন।
অনেকেই মহান আল্লাহর মহা নেয়ামত সন্তান পেয়ে সেসব সন্তানকে অকারণে বদ দোয়া করেন। আর পিতা-মাতার বদ দোয়া সন্তানের ওপর আপতিত হয়। যেমনটি হয়েছিল বনি ইসরাইলের ইবাদতগুজার ব্যক্তি জুরায়েজের সঙ্গে। তিনি এত বেশি ইবাদত করতেন যে তার ইবাদতের কথা গোটা বনি ইসরাইলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, একবার তিনি ইবাদতে মগ্ন থাকা অবস্থায় তার মা এসে তাকে ডাকলেন। তিনি ভাবলেন, আমি কি তার ডাকে সাড়া দেব, না নামাজ আদায় করতে থাকব? তার মা বললেন, হে আল্লাহ! ব্যভিচারিণীর মুখ না দেখা পর্যন্ত তুমি তাকে মৃত্যু দিয়ো না। তার মায়ের এই কথা মহান আল্লাহ কবুল করে ফেলেন। জুরায়েজ তার ইবাদতখানায় থাকতেন। একবার তার প্রতি এক দুষ্ট নারীর বদ নজর পড়ে। সে তার গোত্রকে বলে যে, তোমরা চাইলে আমি জুরায়েজকে জব্দ করতে পারি। কিছু দুষ্ট লোক তাকে এই কাজটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করল। ছলনাময়ী সেই নারী জুরায়েজের চরিত্রে কালিমা লেপনের জন্য নিজেকে নিয়ে তার কাছে পেশ করল। কিন্তু জুরায়েজ তাকে পাত্তাও দেননি। তার দিকে ফিরেই তাকাননি। সে ঠিক করল, যে করেই হোক গোত্রবাসীকে জুরায়েজের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে হবে। তাই সে জুরায়েজের ইবাদতখানার পাশে বকরি চরানো এক রাখালের সঙ্গে একান্তে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এতে সে গর্ভবতী হয়ে যায়। কিছুদিন পর সে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে। গোত্রের লোকেরা যখন জিজ্ঞেস করল, এটা কার সন্তান? সে দাবি করল, এটা জুরায়েজের সন্তান। এতে গোত্রের জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে জুরায়েজের ইবাদতখানার ওপর চড়াও হয়। তারা তাকে টেনে নামায়। এমনকি কিছু দুষ্ট লোক পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উসকানি দিয়ে গোত্রের লোকদের দিয়ে জুরায়েজকে গালাগাল ও মারধর করে। তার ইবাদতখানাটিও ভেঙে দেয়। তখন জুরায়েজ বলেন, ব্যাপার কী? কেন তার ওপর এভাবে হামলা করা হচ্ছে? তারা বলে, তুমি এই মেয়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছ। ফলে সে একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেছে। জুরায়েজ বলেন, সেই ছেলেটি কোথায়? তারা বলল, এই যে। জুরায়েজ সঙ্গে সঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। তারপর ছেলেটির কাছে গিয়ে আঙুলের খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে শিশু! আল্লাহর কসম, তোমার জন্মদাতা কে? সে বলে, ‘আমি রাখালের পুত্র।’
এই ঘটনাটি গোত্রবাসীর ভুল ভাঙিয়ে দেয়। তারা লজ্জিত হয় এবং জুরায়েজের কাছে এসে তাকে চুমু খেতে শুরু করে। অনুতপ্ত হয়ে বলতে লাগে, আমরা সোনা দিয়ে তোমার ইবাদতখানাটি পুনর্নির্মাণ করে দেব। জুরায়েজ বলেন, না। তা আমার দরকার নেই। আগে যেমন ছিল, তেমন করেই নির্মাণ করে দাও। মহান আল্লাহ আমাদের সন্তান লালন-পালন করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার তওফিক দান করুন। আমিন।