যেভাবে মনে রাখব তাকে

মতিয়া চৌধুরী ছাত্রজীবনে প্রগতিশীল, বামপন্থার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, ডাকসুর জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে শীর্ষপর্যায়ের নেতৃত্বে ছিলেন। জনপ্রিয় নেতা হিসেবে তিনি তখন সারা দেশকে কাঁপিয়ে তুলেছিলেন। পরে তিনি রাজনৈতিক দল ন্যাপে যোগ দিয়ে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। কিন্তু যে কথাটা অনেকে জানেন না, সেটা হলো তিনি সেই ষাটের দশকে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৩ বা ৭৪ সালের দিকে তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হন। তার গোপন নাম ছিল সকিনা। এ নাম নিয়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। পরে অবশ্য তিনি আর পার্টির দায়িত্বে থাকেননি। সম্ভবত ১৯৭৮ কিংবা ৭৯ সালের দিকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি তো বটেই, ন্যাপও পরিত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তারপর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিই করেছেন। তিনি বাকশালের সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বারও ছিলেন খুব সম্ভবত। মোটকথা, তিনি ২৫ বছর বামপন্থি ধারায় ছিলেন; ৪৫ বছর আওয়ামী লীগের বুর্জোয়া রাজনীতি করেছেন।

মতিয়া চৌধুরী শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি একটি রাজনৈতিক দলেরও নেতা ছিলেন। সুতরাং সমাজের প্রতি তার অবদান বা তাকে মূল্যায়ন করতে হলে তিনি যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিলেন, সে দলেরও মূল্যায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে তার ব্যক্তি চরিত্রেরও মূল্যায়ন করতে হবে। লোভ-লালসা, প্রলোভন ব্যক্তি হিসেবে তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। এটা সাধারণভাবে দেশবাসীর কাছে স্বীকৃত। কিন্তু দলের অধঃপতন, দুর্বৃত্তায়ন, লুটেরা চরিত্রের দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

আমরা ষাট ও সত্তর দশকের সেই মতিয়া চৌধুরী এবং তার পরের রাজনীতি দুটোকেই মনে রাখব। অবশ্যই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সৎ। আর তার অগ্নিকন্যা হিসেবে যে ভূমিকা, সেটা তো বামপন্থার রাজনীতিই তাকে দিয়েছে, এটা তো আওয়ামী লীগের কিছু নয়। আওয়ামী লীগ তাকে এই উপাধি দেয়নি, তিনি তখন খুব কড়া বক্তৃতা করতেন, তাই মানুষ তাকে অগ্নিকন্যা বলত।

অনুলিখিত