দীর্ঘ সময় পদোন্নতিবঞ্চিত দেশের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পদোন্নতি চেয়েছেন। বিসিএসের ব্যাচভিত্তিকে পদোন্নতির পাশাপাশি একটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক স্থাপনসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমের কাছে বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতির (বিপিএ) জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।
গতকাল দাবি পূরণে চিকিৎসকরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। স্মারকলিপিতে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ এবং সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. বেলায়েত হোসেন ঢালী স্বাক্ষর করেন।
শিশু রোগের চিকিৎসার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে চিকিৎসকরা জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু হলেও সরকারি হাসপাতালে মাত্র ১৩ শতাংশ শিশুর জন্য শয্যা রয়েছে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের অন্তবিভাগে শয্যা সংখ্যার কয়েকগুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি থাকে, বহির্বিভাগেও থাকে উপচে পড়া ভিড়। জনবলের প্রকট ঘাটতি সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা রোগীদের যথাযথ সেবা দিচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা চাকরির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। শিশুরোগীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে চিকিৎসকদের পদ বাড়েনি। অপর্যাপ্ত পদ সংখ্যা, অনিয়মিত ও ত্রুটিপূর্ণ পদোন্নতি প্রক্রিয়ার কারণে এসব চিকিৎসক কাক্সিক্ষত পদোন্নতি পাচ্ছেন না। পদোন্নতির বৈষম্যের কারণে বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে নানাবিধ ও চরম হতাশার জন্ম দিয়েছে।
পদোন্নতি বৈষম্যের উদাহরণ দিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০তম বিসিএসের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এখনো ষষ্ঠ গ্রেডের সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত। অথচ চিকিৎসার কোনো কোনো বিষয়ে একই বিসিএসের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হয়েছেন। একই বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব হয়েছেন। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসক ১০ থেকে ১৫ বছর চাকরি করেও এখনো মেডিকেল অফিসার পদে কর্মরত আছেন।
স্মারকলিপিতে তুলে ধরা সমিতির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিসিএসের জ্যেষ্ঠতা অনুসারে পদোন্নতি, বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু বিভাগে মেডিকেল অফিসার থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত নতুন পদ সৃষ্টি, ঢাকায় একটি সরকারি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিকস (এনআইপি) স্থাপন ইত্যাদি।
স্মারকলিপিতে এসব দাবি পূরণে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে প্রয়োজনে সরাসরি আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।