তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী। পেশায় আইনজীবী। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন। সাধারণ পোশাকে অ্যাডভোকেট এলিনা খান অফিসে এলেন যথাসময়ে। বসলেন সম্পাদক মোস্তফা মামুনের রুমে। কিছুক্ষণ কথা হলো। এরপর ছবি তুলতে গেলেন। তারপর শুরু হলো জমজমাট আড্ডা। ছিলেন সহকারী সম্পাদক তাপস রায়হান, সিনিয়র সহ-সম্পাদক মোহসীনা লাইজু, ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপিকা ফারজানা নিকিতা এবং সহ-সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ দেব। ক্যামেরার বাইরে ছিলেন কনটেন্ট এডিটর নুরুস সাফা।
আড্ডা শুরুর আগের কথা। যখন এলিনা খান সম্পাদকের রুমে ঢুকলেন, তখন মধ্যদুপুর। তাকে ঘিরে বসে আছেন অনেকে। কেউ চেয়ারে, কেউ সোফায়। কথায় কথায় জানালেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোর বিভিন্ন ঘটনা। খোলামেলা আলোচনার একপর্যায়ে বললেন বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এভাবে দেশত্যাগ ঠিক হয়নি। এই যে তিনি দলের এত লোকজন ফেলে চলে গেলেন, তিনি তো বুঝলেনই না, তারা কী অবস্থায় আছে? তিনি যদি সবাইকে সাবধান হতে বলতেন, তাহলে তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। এদিক থেকে কিন্তু খালেদা জিয়া জিতে গেলেন। তিনি জেল খাটলেন। জেলের মধ্যে অসুস্থ হলেন। তাকেও বাইরে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু যাননি। বলেছিলেন, না আমি যাব না। মরতে হলে, এ দেশেই মরব পালাব না।
ডিজিটাল রুমে আসার পর ক্যামেরার সামনে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক আড্ডা। কোনো ধরনের প্রশ্নের আগেই তিনি বললেন, এখন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে নৈতিকতা, শ্রদ্ধা, মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে। এখন কিছু পরিবার থেকেই সন্তানদের বলা হয় পাস করো, বড় হও। পারলে বিদেশ চলে যাও। না হলে ভালো একটা চাকরি করো। সত্যিকারের মানুষ হতে হলে তো অনেক কিছু দরকার। আমি যদি পরিপূর্ণ মানুষ হই প্রথমেই প্রশ্ন আসে পরিবার নিয়ে। আমার কিন্তু একটা দায়িত্ব আছে। এটা ছেলেমেয়ে সবারই। সমাজ নিয়ে ভাবনার একটা বিষয়ও আছে। শুরু হলো প্রশ্নোত্তর।
মোহসীনা লাইজু : আপনি হঠাৎ করে আইন বিষয়ে পড়তে এলেন কেন?
এলিনা খান : এটা ইন্টারেস্টিং বিষয়। পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে আমার জন্ম। আব্বা ছিলেন চেয়ারম্যান। তিনি আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বলতে গেলে, আমার ভাইদের থেকেও বেশি স্বাধীনতা ছিল আমার। আমি ছিলাম বিজ্ঞানের ছাত্রী। নিয়মিত বিতর্ক করতাম। তখন আমার মনে হলো আমি তো ডিবেট করি, লেখালেখি করি, আমার মনে হয় বাংলাতে যাওয়া উচিত। ভাবলাম, সাহিত্যের ওপর দখল নিতে হবে। এটা শুনে আব্বা কিছু বললেন না। কিন্তু বাসার সবাই আব্বাকে বলল, ওকে বাধা দেন। আব্বা বললেন, ও পড়তে চায়, পড়–ক। যেখানেই যাই করুক, বের হয়ে যাবে। অনার্স যখন পড়ছি তখন বিটিভিতে একটা বিতর্ক অনুষ্ঠানে এলাম। তখন মনে হলো নাহ্, আমার তো যুক্তি-তর্কে যাওয়া উচিত। এটা বাংলা দিয়ে হবে না। বাংলা অনার্স-মাস্টার্স কমপ্লিট করলাম। তখন ইউনিভার্সিটিতে রাতে আইনের ক্লাস হতো। মনে হলো, আইন পড়লে কেমন হয়? ব্যস, ভর্তি হয়ে গেলাম। আসল উদ্দেশ্য ছিল রাতের বেলায় কেমন লাগে, সেটা দেখা। মাস্টার্স কমপ্লিট করলাম ’৮২ সালে। আর ল কমপ্লিট করলাম ’৮৪ সালে। তখন মনে হলো, আইনটা তো ভালোই লাগছে। এই তো এভাবেই চলছে। আসলে ল’টা কিন্তু মানুষকে মানবিকতা শেখায়।
ইন্দ্রজিৎ দেব : মৌলিক অধিকার নিয়ে আপনার কাজ সম্পর্কে যদি একটু বলেন
এলিনা খান : আসলে আমি তো বটেই অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষা এর প্রতি বর্তমান সরকারই যথেষ্ট আন্তরিক। তারা এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে দেশের জনসংখ্যা কিন্তু প্রবল। এখনই সব বিষয়ে চাপ দিলে হবে না। এর বাইরে একটু আসি। সবচেয়ে বেশি দরকার আমাদের বাকস্বাধীনতা। আমি যদি চলাফেরাই না করতে পারি, তাহলে তো হলো না। বিনোদন বা যেকোনো উৎসব যার যার ধর্ম অনুযায়ী তাদের মতো করে হবে। কেউ বাধা দিবে না। এখন দু-এক জায়গায় সমস্যা হতেই পারে। সেটা বড় কিছু না। অ্যাক্সিডেন্ট ইজ অলওয়েজ অ্যাক্সিডেন্ট। রাষ্ট্রের এখন দরকার পাঁচটি মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া দরকার চিকিৎসায়। এটা বর্তমানে খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। অনেক গরিব মানুষ কিন্তু বিভিন্ন চিকিৎসার খরচ বহনই করতে পারে না। আসেন খাদ্যে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এটা দ্রুত রোধ করা উচিত। সব পণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা ভীষণ প্রয়োজন। আসলে আমাদের নেতৃত্ব তো শুধু ‘আমাদের’ নিয়েই ব্যস্ত। সেখানে জনগণ কোথায়? এই যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হলো, বিশাল বিশাল দুর্নীতি হলো সব কিছু জানার পরও কী হয়েছে? না, কিছুই হয়নি। আমরা কিছুই করতে পারিনি। আসলে সেই সদিচ্ছা কি ছিল? চীনের মতো বিশাল দেশ যদি পারে আমরা পারছি না কেন? তারা তো সাধারণ মানুষের সবকিছু দিচ্ছে। সেখানে তো কথা বলার দরকারই নেই। এখানে রাষ্ট্রের একটি সুচিন্তিত মতামত থাকতে হবে। আপনি দেশব্যাপী কিছু কর্মসূচি নেন না?
মোহসীনা লাইজু : টাকা পাচার , মানি লন্ডারিং, হুন্ডি বা বিভিন্ন অপরাধীকে বিদেশ থেকে আনতে পারছি না। এসব বিষয়ে আইন হচ্ছে না কেন?
এলিনা খান : হচ্ছে না, ঠিক না। কিছু কিছু দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। ভারত, লন্ডনের সঙ্গে এটা আছে। যার জন্যই করুক। এটা আছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে একটা চমৎকার আইন আছে। সেটা হচ্ছে মনে করেন, আপনার অনেক সম্পদ, বাড়িঘর আছে। যার হিসাব সরকারের কাছে নেই। আমি সেটা জানলাম। এরপর আপনাকে বলব তোমার কাছে দুটি অপশন আছে।
এক. তুমি এর জন্য শাস্তি পাবে, জেলে যাবে। দুই. এই সম্পদগুলো রাষ্ট্রকে দিয়ে দাও। ইচ্ছা তোমার। এই যে ভয়, এই কারণে কিন্তু অনেক কিছু হচ্ছে না। আমাদের দেশেও তো এ রকম একটা আইন হতে পারে। কই? হয়েছে? এই যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হলো কিছু হয়েছে? কোনো ভয় না
থাকার কারণেই কিন্তু এ রকম হয়েছে।
তাপস রায়হান : মানবাধিকার নিয়ে কিছু বলবেন?
এলিনা খান : দুই মাসের অন্তর্বর্তী সরকারকে বাদ দিয়ে আমি পেছনে যাই। বাংলাদেশে মানবাধিকার বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্নভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। সেটা বিভিন্ন কারণে হয়েছে। কখনো সরকারের মাধ্যমে, কখনো প্রভাবশালীদের কারণে, পরিবারের মধ্যে হয়েছে বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্নভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তারই কিন্তু বিস্ফোরণ হলো আগস্টে। যেটা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। ফলে দুই মাসকে কিন্তু আমরা বিচার করতে পারি না। যখন একটা অভ্যুত্থান হয়, তখন দেশের সব কাঠামো কিন্তু নাড়াচড়া খায়। এর মধ্যে এবার আইনশৃঙ্খলাটা বেশি নাড়াচাড়া খেয়েছে। অনেক পুলিশকে কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের কেন পাওয়া যাবে না! সবারই তো ন্যাশনাল আইডি রয়েছে। আমরা শুনেছি, বাইরের পুলিশও ছিল। এসব জায়গা ঠিক করতে হবে। তাদের সময় দিতে হবে। প্রায় ১০ হাজার আইনজীবী কিন্তু নেই। এখন তাদের রিপ্লেস করতে হবে। এটা তো রাতারাতি হবে না। এটা সম্ভব না। আসলে দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতি ছিল। তারা এমন সব জাজমেন্ট দিয়েছেন, যা বলার মতো না।
তাপস রায়হান : আগস্ট মাসের কথা। তখন আপনি, আপনার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মী দেশের বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন। দেখেছেন আহতদের। সেই অভিজ্ঞতা যদি একটু বলতেন?
এলিনা খান : আসলে সে সময় শুধু আমার একার উদ্যোগ ছিল না। অধিকাংশ মানুষই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমাদের উদ্যোগটা ছিল কিন্তু জুলাই মাস থেকেই। দেখেছি শত শত মায়ের কান্না। আমরা কিন্তু গত ৪ আগস্টেই জানতে পেরেছিলাম, একটা কিছু হচ্ছে। জুলাই থেকেই আমরা বলছিলাম। লেখালেখি করছিলাম। আমরা বরাবরই একটা সমাধানের কথা বলেছি। এও বলেছি, এটা যেন সমাধান করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি তো ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকেই আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে জানলাম, মারাত্মক কিছু একটা ঘটে গেছে। ৫ তারিখ দুপুরের দিকে আমি শাহবাগে যাই। ছোট ছোট সেই ছেলেগুলো কিন্তু স্বাধীনতা দেখেনি। তখন তো ওদের জন্মই হয়নি। আমরাই ছোট ছিলাম। কিন্তু সেদিন ওদের আনন্দ উল্লাস দেখলাম। আমি একটা পতাকা নিয়ে ছবি তুললাম। আর আমার প্রতিষ্ঠানের কথা হচ্ছে ঘটনার পর ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদের আইন সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে। যারা আহত বা আটক ছিল তাদের পাশে আমরা দাঁড়াই। দেশের সব হাসপাতালে যাওয়া তো সম্ভব হয়নি। আমি গেছি পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানের দৃশ্যগুলো দেখে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। যেহেতু আমরা আইনজীবী, সেহেতু বলেছি তাদের আইনগত সহযোগিতা দেব। আমরা কিন্তু অনেককেই আইনি সহযোগিতা দিয়েছি। যে যেখান থেকে পেরেছি, সেখান থেকে আমরা সহযোগিতা করেছি। আমরা আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক চেষ্টা করেছি।
তাপস রায়হান : সেই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে...
এলিনা খান : আদালতে কয়েকটি মামলা যাবে। যেখানে গণহত্যা হয়েছে, সেগুলো আসবে। দেশের সবখানে তো তা হয়নি। গণহত্যাটা যেখানে যাওয়ার দরকার, সেখানে যাবে। আসলে দ্রুত বিচারের একটা আলাদা সেটআপ তৈরি করতে হবে।
ইন্দ্রজিৎ দেব : ‘মব জাস্টিজ’ নিয়ে কিছু বলুন?
এলিনা খান : এ কথাটা ঠিক না। ‘মব জাস্টিজ’ বলে কিছু নেই। এটা হবে ‘মব কিলিং’। এটা আইনবহির্ভূত, কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব অপরাধমূলক। বিকৃত মানুষ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মব কিলিং হতে পারে, মব ইনজিওরড হতে পারে। আইন কেউ হাতে তুলে নিতে পারে না। আসলে কিন্তু আইন হাতে নেয়নি। একটা অভ্যুত্থান হয়েছে। যখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গুলি হচ্ছে, তখন একজন সেখান থেকে নিজেকে রক্ষা করেছে। এখানে কিন্তু ২ জন ২ জনের পক্ষ থেকে প্রটেকশনের ব্যবস্থা করেছে।
মোহসীনা লাইজু : দীর্ঘদিন বিচারহীনতা, আইনের সুশাসন এসব নিয়ে কি মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল?
এলিনা খান : কিছুটা তো ছিলই। আমি আইন সংস্কারের ওপর একটা লেখা লিখেছি। সেখানে এক জায়গায় বলেছি দেশব্যাপী আমাদের ৩৮ লাখের ওপর মামলা পেন্ডিং। এসব শেষ হবে কবে? এ মুহূর্তে খুব দরকার, আদালতের একটা কাঠামো তৈরি করা। প্রচুর পরিমাণে বিল্ডিং তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে ম্যান পাওয়ার, লজিস্টিক সাপোর্ট, বিচারপতি, ল ইয়ার লাগবে। না হলে এই মামলা শেষ করা যাবে না। এখানে শক্ত মনিটরিং সিস্টেম লাগবে। আমাদের জানতে হবে, কী লাগবে? আমাদের তো যোগ্য লোকের অভাব নেই।
মোহসীনা লাইজু : আমাদের বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনজীবী সব দলীয়করণ হয়েছে। সেখান থেকে কীভাবে বের হতে পারি?
এলিনা খান : দেখেন, এটা তো একদিনে হয়নি। দীর্ঘসময় নিয়ে হয়েছে। এখন সত্যিকারের জাজ, তারা কিন্তু কর্নারে চলে গেছেন। তাদের সামনে আসতে দেওয়া হয়নি। সব নিয়োগ হয়েছে দলীয়ভাবে। তাহলে কী করবেন? অবশ্যই করতে হবে সচিবালয় করতে হবে একটা। যা থাকবে সুপ্রিমকোর্টের অধীন। এটা বাইরের অনেক দেশে আছে। যখনই বিচারপতি, বিচারক নিয়োগ হবে সেটা একটি মনিটরিং সেলের মাধ্যমে হবে। তারাই যোগ্য, অযোগ্য নির্ধারণ করবে। এটা কিন্তু কঠিন কোনো কাজ না। আমি যেকোনো একটি দলের আদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারি। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে যখন যাব, তখন কিন্তু তা বিবেচনায় আসবে না। আমার যেন ন্যায়, যুুক্তিসংগত একটা দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। এ রকম মানসিকতা যাদের আছে তারাই আসবেন।
ফারজানা নিকিতা: এখন অনেকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে কথা বলছেন। এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?
এলিনা খান : প্রথমেই বলি, আমি সংবিধান বিশেষজ্ঞ নই। প্রথম কথা হচ্ছে, আমাদের নিয়মিতভাবে সংবিধান পড়তে হয়। একজন আইনের ছাত্রী বলেন, আইনজীবী বলেন, এটি পড়েই কিন্তু এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে। সংস্কার বলেন, সংশোধন বলেন, তা পরিবর্তন দরকার।
তাপস রায়হান : শেষ দিকে চলে এসেছি। আপনার ছোটবেলা কেমন ছিল?
এলিনা খান : আমার নামটা দিয়েছিলেন বড় বোন। আমার ডাক নাম হচ্ছে বেবি। তখন তো অনেক ঘটনা। এভাবেই স্কুল-কলেজ। কয়টা বলব? হাহাহাহাহাহা।
তাপস রায়হান : বিশ্ববিদ্যালয় জীবন?
এলিনা খান : আহা...! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই মতিহার চত্বর। আমি যদি আবার ফিরে যেতে পারতাম সেই জীবনে...! সেটা ছিল ’৭৭ থেকে ’৮৪ পর্যন্ত। অনেক মজার, অনেক স্মৃতি আছে। জীবনকে উপভোগ করেছি। সবসময় চাই কারও যেন ক্ষতি না হয়।
মোহসীনা লাইজু : আপনার পরিবার নিয়ে কিছু বলবেন না?
এলিনা খান : আমার এক ছেলে পিয়াল আর এক মেয়ে চৈতি। মেয়ে আমেরিকার টেক্সাসে থাকে। ও একটা স্কুলের শিক্ষক, ভালো নাচে। আর ছেলে আইনজীবী। ও আমার সঙ্গেই প্র্যাকটিস করছে। নাতনি নূরী আর নাজারাত। নাতি সেহরান। স্বামী হচ্ছেন আইনজীবী। মুচকি হেসে বললেন এই তো সব নিয়ে ভালোই আছি। হাসতে হাসতে বললেন আমাদের বিয়ে হয়েছে তো ইউনিভার্সিটিতে থাকতেই। আমি বলেছি, তুমি রাজনীতি কর। আমি আমার মতো থাকি।
গ্রন্থনা : অনিন্দিতা আচার্য
ছবি : আবুল কালাম আজাদ
লোকেশন : গ্রিন লাউঞ্জ