সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেছেন, বয়সসীমা পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি সরকারকে প্রতিবেদন দিয়েছে। বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। সরকার প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছে। পরবর্তী সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
গতকাল ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ থেকে এ টাকা প্রদান করা হবে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, পরবর্তীকালে যাচাই-বাছাই করে যদি আরও টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হয়, সেটাও করা হবে।
তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট মাসে যারা শহীদ হয়েছেন, শুধু তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়, যারা আহত হয়েছেন তাদের পরিবারকেও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আহতদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহে একটি দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আহতের যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, সেটি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাতজনের একটি তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। যদি আরও বেশি প্রয়োজন হয়, আমরা সেটি করব।
তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে আবার পরিষ্কার করা হচ্ছে, আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনোরকম গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে বলে দেওয়া হয়েছে, তাদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করার জন্য। তারপরও যারা পয়সা দিয়েছে, তাদের পয়সা ফেরত দেওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের সময় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষদের তালিকা সরিয়ে ফেলার কথা জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, যেসব হাসপাতাল থেকে কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যারা নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা কাগজপত্র সরিয়েছেন, তাদের সবার ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের তালিকা করতে গিয়ে একটি বিষয় আমাদের ভোগাচ্ছে। সে সময় হাসপাতালগুলো থেকে কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। অনেক কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার কারণে আমরা অনেক জায়গা থেকে তথ্য পেলেও হাসপাতাল থেকে ক্রসচেক করার সুযোগ পাচ্ছি না। ফলে আমাদের কাছে ভেরিফায়েড লিস্ট ছাড়াও আরেকটা লিস্ট আছে। সেটা মাঠপর্যায়ে থেকে যাচাই-বাছাই করে আনতে হচ্ছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটা অংশ থেকে আট দফা দাবি জানান হয়েছিল। সেই আট দফা দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। সরকার এসব দাবি বিবেচনায় নিচ্ছে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, নতুন এই বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ে কারও অনিরাপদ বোধ করার কোনো কারণ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে অভিযোগ করে এ বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনার কথা জানান তিনি। এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত না হলেও সবাইকে ‘অপপ্রচারের’ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার অনুরোধও করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাকস্বাধীনতায় কোনোরকম হস্তক্ষেপ করছি না, এটা আমাদের নীতিগত অবস্থান। যা বলতে চাচ্ছেন সবই বলছেন, সবই লিখছেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। প্রোপাগান্ডা করার উদ্দেশ্যে তথ্য বিকৃতি করা হচ্ছে, কিছু মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং সেগুলো বুস্ট করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, ‘মিথ্যা’ কোনো বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনবেন না।
নিজের উদাহরণ দিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, একজন খেলোয়াড়ের ছবি ও আমার ছবি দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকের নাম ও লোগো ব্যবহার করে বলা হচ্ছে যে, ওমুক খেলোয়াড় আমাকে বলেছে যে, আমি যেন পর্দা করি। কিন্তু ওই খেলোয়াড়ও কিছু বলেনি, ওই পত্রিকায়ও এ ধরনের সংবাদ ছাপেনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।