ঘরের মাঠে শেষ টেস্ট খেলে বিদায় নেবেন এই প্রস্তুতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দুবাই আসার পর গতকাল সকালে তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার কথা ছিল...কিন্তু এখন হয়তো ফিরতে পারব না। সিকিউরিটি ইস্যুর জন্য, আমার নিজের নিরাপত্তার জন্যই। সিদ্ধান্ত চূড়ান্তই বলতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি না এরপর কোথায় যাব। তবে এটা প্রায় নিশ্চিত যে দেশে আর ফিরছি না।’ সাকিব দুবাই-ঢাকা কানেক্টিং ফ্লাইটে আর চড়েননি বলেই জানা গেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিসিবির পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম, দুবাই অবস্থানরত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তিনজন প্রতিনিধির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন সাকিব। সেখানেই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাকিবকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রথম থেকেই বলেছি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে সাকিব আল হাসান নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে, যা স্বাভাবিক। রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করাসহ জনমনের ক্ষোভ নিরসনে তিনি ফেসবুক পোস্ট দিলেও সাম্প্রতিক প্রতিবাদে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তা যথেষ্ট ছিল না। যারা প্রতিবাদ করছে তাদেরও তা করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা-বাংলাদেশ সিরিজে কোনো প্রকার অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতেই বিসিবিকে এই পরামর্শ দিয়েছি। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার আশু ব্যবস্থা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত, কোনো অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েই তার সমাধান খোঁজা যেতে পারে।’
সাকিব যখন দুবাইতে অপেক্ষমান, তখন মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বরাবর স্মারকলিপি দেয় মিরপুরের ছাত্র-জনতা নামের একটি সংগঠন। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের মিরপুর টেস্টের দলে সাকিবকে না রাখার ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ‘সাকিবকে জাতীয় দল থেকে বাদ না দিলে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে, আমরা এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আরও কঠোর করব। খেলার দিন মিরপুর এলাকায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। যদি এতে কোনো অরাজকতা সৃষ্টি হয়, বিদেশি দলগুলো খেলতে না আসে, কিংবা বাংলাদেশ ক্রিকেট কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়, তবে এর দায়ভার বিসিবি প্রধান হিসেবে আপনাকেই নিতে হবে।’
সাকিবকে ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ২১ অক্টোবর থেকে মিরপুর টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দল গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করছে।