অধিকাংশ মানুষই অস্টিওপোরোসিস রোগটি নিয়ে সচেতন না। অস্টিওপোরোসিস হলো ছিদ্রযুক্ত হাড় বা অস্থি। জন্মের পর নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে। এরপর কমতে থাকে। হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় ছিদ্রযুক্ত, দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে যখন তখন অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা তৈরি হয়। পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রতি ৩ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৫ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়।
কারা ঝুঁকিতে : যাদের বংশানুক্রমিক হাড়ক্ষয়ের প্রবণতা ওজন কম, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডির ঘাটতি। শারীরিক পরিশ্রম কম করা, থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড হরমোনের আধিক্য, টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি, অল্প বয়সে মেনোপজ বা ইস্ট্রোজেন স্বল্পতা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অন্ত্রের রোগ যেমন ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, সিলিয়াক ডিজিজ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি-জটিলতা। এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, প্রোস্টেট ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারে ব্যবহৃত ওষুধও এই রোগে ঝুঁকি বাড়ায়।
লক্ষণ : শুরুতে কোনো লক্ষণ বোঝা না গেলেও ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে তা মারাত্মক আবার ধারণ করে। অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হলেও হাড়ে ফাটলের আগ পর্যন্ত এ রোগ ধরা পড়ে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মেরুদ- বা পিঠের আকৃতি সামনের দিকে ঝুঁকে যায় বা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতা হ্রাস পায়।
বয়স্করা যা করবেন : বয়োজ্যেষ্ঠরা সিঁড়ির পাশে দেয়ালে হ্যান্ড রেইলের ব্যবস্থা রাখুন, বাথরুমের মেঝে শুকনো রাখুন, বাথরুমে ধরার রড বা স্তম্ভ রাখুন। পিচ্ছিল মেঝে কার্পেট দিয়ে ঢেকে দিন। অন্ধকারে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা রাখুন এবং রাতের বেলা মৃদু আলোর বাল্ব জ¦ালিয়ে রাখুন। বিছানায় শোয়া অবস্থা থেকে দ্রুত নামতে যাবেন না।
প্রতিকার : চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহণ করা যেতে পারেন। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করতে হবে। এতে মাংসপেশি ও হাড়ের শক্তি ও দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে।
দেহের উচ্চতা : ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার যেমন হাড়সহ ছোট মাছ, ডিম, দুধ, টক দই, পালংশাক, ব্রকলি ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখা। সূর্যের আলো হচ্ছে ভিটামিন ডি-এর উৎকৃষ্ট উৎস। তাই দুপুর ১২টার আগে ও বিকাল ৩টার পর সূর্যালোক শরীরের দেওয়া। খাবারের তালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা।
এই রোগ সম্পর্কে বুঝতে গেলে করতে হয় হেক্সা স্ক্যান করতে হবে। এ ছাড়াও চিকিৎসক প্রয়োজনে রক্তের মধ্যে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের পরীক্ষা করাতে পারেন। এর মাধ্যমেই বুঝতে পারা যাবে হাড়ের অবস্থা কেমন।
অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো হাড়কে শক্তিশালী করা, হাড়ক্ষয় কমানো ও ভাঙার হার ঝুঁকি থেকে সচেতন থাকা। এ ছাড়া বিসফসফোনেট জাতীয় ওষুধ, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যবহৃত হয়। তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়। অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হলে পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না। তাই সবার সচেতন হতে হবে।