ফরিদপুরের বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মাতুব্বর, তার স্বজন-সমর্থকদের বাড়িঘরে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজার এলাকা ও বড়খারদিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যদুনন্দি ইউনিয়নের বড়খারদিয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের বিরোধ চলে আসছে। আবুল কালাম আজাদ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার সকালে ময়েনদিয়া বাজার এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকশ হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৫টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীরা এ সময় বাড়িঘরে ব্যাপক লুটপাট চালায়। হামলার সময় চেয়ারম্যান বাড়িতে ছিলেন না। তার স্ত্রী, কন্যাসহ অন্যরা এ সময় হামলা থেকে বাঁচতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। চেয়ারম্যানের কয়েক স্বজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর, তার ছেলে হারেজ মাতুব্বর, মজনু মাতুব্বর ও মাসুদ মাতুব্বর এবং চেয়ারম্যানের ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের সমর্থক বড়খারদিয়া গ্রামের হাসেম মোল্লা, কালাম মোল্লা, ইব্রাহিম মোল্লা, হবি মোল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েক দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মান্নান মাতুব্বরের স্ত্রী রুনা বেগম বলেন, ‘হামলাকারীরা বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘরের মূল্যবান আসবাব, সোনা-গহনা লুট করে নিয়ে যায়। সবকিছু হারিয়ে এখন আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। দূরে প্রতিবেশীর বাড়িতে এক কাপড়ে আশ্রয় নিয়েছি।’
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বারখাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ মৃতুদ-ে দ-িত হন। এখন তিনি পলাতক আছেন। এ মামলার সাক্ষী ছিলেন চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আবুল কালাম আজাদের ফাঁসির রায় হয় বলে ধারণা করেন তার অনুসারীরা। এ ছাড়া বিগত দিনে ময়েনদিয়া বাজারে চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান একক আধিপত্য কায়েম করেছিলেন। তিনি একটি হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন। স্থানীয়রা বলছেন মূলত দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই বিক্ষুব্ধ জনতা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে আবুল কালাম আজাদের ছেলে জিহাদ মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনা সদস্য ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।