স্বামীর হাতুড়িপেটায় স্ত্রী খুন টাকা ফেরত চাওয়ায় হত্যা

কিস্তির টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া গ্রামে স্বামীর হাতুড়ি আঘাতে খুন হয়েছেন স্ত্রী নাজমা বেগম (৫০)। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রীকে হত্যার পর পালিয়েছে স্বামী আনোয়ার হোসেন আনু (৬০)। তিন মাস আসে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

স্থানীয়রা জানান, স্বামী আনোয়ারকে বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে টাকা তুলে দিয়েছিলেন স্ত্রী নাজমা। কিন্তু কিস্তির টাকা দিতে টালবাহনা শুরু করে আনোয়ার। এ নিয়ে তাদের মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। গত ১৬ অক্টোবর এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রীকে মারধর করে আনোয়ার। এ ঘটনায় থানায় বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন নাজমা। পরে গতকাল টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কামারখাড়া কবরস্থানের সামনে নাজমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আনোয়ার। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় নাজমার।

নিহত নাজমা বেগমের ছেলে ইব্রাহিম বলেন, কিস্তির টাকা নিয়ে মায়ের সঙ্গে সৎবাবার দ্বন্দ্ব চলছিল। আমার সৎবাবা নেশা করত। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিল না। মা টাকা চাইলেই মারধর করত।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি থানার ওসি মুহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ছনুয়াতে ভিসার টাকা ফেরত চাওয়ায় ছুরিকাঘাতে মনজুর আলম ওরফে বাবুল (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মনজুর আলম ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী এলাকার মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে।

নিহতের ছোট ভাই মনছুর বলেন, খুনি সোহেলের থেকে তিন বছর আগে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে একটি ভিসা কেনেন ভাই বাবুল। তবে ভিসা দেওয়ার সময় যে চাকরির কথা ছিল, বিদেশ গিয়ে তা না দিয়ে বসিয়ে রাখে। ভিসার চুক্তি অনুযায়ী চাকরি করতে না পারায় ভাই টাকা ফেরত চাইলে টাকা দিতে নানা ছলছাতুরি করে। তিন-চার মাস পরও চাকরি না দেওয়ায় আমার ভাই কয়েকজনের সহযোগিতায় দেশে চলে এসে আদালতে মামলা করেন। মামলা চলাকালীন স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও সোহেল রাজি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, গতকাল টাকা ফেরত দেবে বলে তাদের এলাকার ডেকে নিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করে সোহেল।

এদিকে অভিযুক্ত সোহেলকে আটক করে বাঁশখালীতে দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর টহল দল ও পুলিশ।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মনজুরকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে সব ঘটনা বলেন মনজুর।