এক বছর ধরে সিনওয়ারকে খুঁজছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলে গত বছরের গত ৭ অক্টোবর হামলা চালায় হামাস। এর পর থেকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সহায়তায় সেদিনের হামলার মূল পরিকল্পনাকারীকে খুঁজছিল ইসরায়েলি বাহিনী। শেষ পর্যন্ত নিছক দুর্ঘটনাবশত একদল ইসরায়েলি সেনা তাদের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তির সন্ধান পায়।

বার্তা সংস্থা সিএনএন জানায়, বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা প্রথম ইসরায়েলের কাছ থেকে খবর পান, হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার মারা গেছেন।

তার মৃত্যুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এক বছর ধরে চলা তল্লাশির অবসান ঘটল এবং যুদ্ধ শেষ করতে কী কী করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পেল। সিআইএ সিনওয়ারকে খুঁজে বের করার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছিল; এবং ৭ অক্টোবরের পর যুক্তরাষ্ট্র হামাস ও তার নেতার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ওই অঞ্চলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে।

তবে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, তার মৃত্যুর মুহূর্তটি পুরোপুরি বিস্ময়কর ছিল। একাধিকবার তারা কাছাকাছি ছিল, হামাস প্রধান এক ভূগর্ভস্থ গোপন স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাচ্ছিলেন। গাজার মাটির নিচে খনন করা অন্তহীন সুড়ঙ্গে সিনওয়ার ভূতের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিল। খুব কমই তিনি মাটির উপরে এসে যোগাযোগ করতেন। যেন নজরদারির মাধ্যমে তাকে সনাক্ত করা না যায়।

আইডিএফের বিসলামাচ ব্রিগেডের পদাতিক সৈন্যরা, যারা সাধারণত ভবিষ্যতের কমান্ডারদের প্রশিক্ষণ দেয় তারা দক্ষিণ গাজার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে অনুসরণ করছিল। ইসরায়েলিরা একটি ট্যাংক থেকে গুলি চালায় এবং একটি ড্রোন ফাঁপা ভবনে আঘাত হানে। গোলাগুলি বিনিময় শেষে পরদিন সকালে সৈন্যরা ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছিল লাশগুলোর মধ্যে একটি সিনওয়ার।

ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রায়শই সিনওয়ার দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যে সাধারণ অঞ্চলটি লুকিয়ে ছিল সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা ছিল। কিন্তু অধরা হামাস নেতার ক্রমাগত নড়াচড়ায় তার অবস্থান চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠে।

তিনি সেল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে পরিহার করেছিলেন, পরিবর্তে গাজার অভ্যন্তরে সামরিক কমান্ডার এবং দোহায় হামাস কর্মকর্তাদের কাছে তার নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার জন্য লিখিত নোট পাঠাতেন। মাঝে মাঝে সিনওয়ারের প্রতিক্রিয়ার জন্য কয়েক দিন বা সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হত।

৭ অক্টোবরের পর থেকে সিনওয়ার প্রকাশ্যে আসেননি। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার একমাত্র সরাসরি যোগাযোগ ছিল বেশ কয়েকটি চিঠির মাধ্যমে। গত মাসে তিনি হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে চিঠি লিখেছিলেন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বলেছে, তিনি নাসরুল্লাহকে চিঠি লিখে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এতদিন সিনওয়ার তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতেন, এমনকি আতঙ্কিত থাকতেন বলে জানা গেছে। বুধবার কী কারণে তিনি মাটির ওপরে উঠে গেলেন তা স্পষ্ট নয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই লোকগুলো আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসে এবং কখনোই আরামে থাকতে পারে না।’