প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিউবা জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে; তাতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে দেশটির এক কোটি মানুষ। স্থানীয় গত শুক্রবার ১১টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কর্মকর্তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ ফিরতে কত সময় লাগতে পারে তা তারা জানেন না।
বিবিসি লিখেছে, দ্বীপ রাষ্ট্রটি কয়েক মাস ধরেই ‘ব্ল্যাকআউট’ পরিস্থিতিতে পড়ছে; বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ‘জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেন। দেশটির মাতানজাসে অবস্থিত আন্তোনিও গুতেরেস বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর শুক্রবারের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল বারমুদেজ বলেছেন, এই পরিস্থিতি তার কাছে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ পাচ্ছে। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, বিদ্যুৎ না ফেরা পর্যন্ত কোনো বিরাম নেই। পরে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের প্রধান লাজারা গুয়েরাকে উদ্ধৃত করে একটি বার্তা সংস্থা জানায়, বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের কিছু স্তর রয়েছে, যা দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুতে ব্যবহার করা হবে।
এর আগে শুক্রবার সরকারি কর্মকর্তারা নাইটক্লাব, সব স্কুল ও অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম গত সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিপর্যয়ের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং অগুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবাগুলো স্থগিত করা হয়েছিল। ব্যস্ত সময়ে ফ্রিজ ও ওভেনের মতো উচ্চ মাত্রার যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখারও আহ্বান জানানো হয়।
ন্যাশনাল ইলেকট্রিক ইউনিয়নের (ইউএনই) প্রধান আলফ্রেডো লোপেজ ভালদেস স্বীকার করেছেন, দ্বীপ রাষ্ট্রটি বিদ্যুৎ নিয়ে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে, যার জন্য জ্বালানি ঘাটতি মূলত দায়ী। বিবিসি লিখেছে, দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউট কিউবার জন্য সর্বদাই অস্থির সময় ধরা হয়। কারণ আলো জ্বালিয়ে রাখার ক্ষমতাকে কিউবান সরকারের জনশৃঙ্খলা ধরে রাখার সক্ষমতা হিসেবে বিবেচিত।
২০২১ সালের জুলাই মাসে কয়েক দিনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিলে দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। তখন ফ্রিজের মূল্যবান খাবার নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দিনের পর দিন এসি বা সিলিং ফ্যান ছাড়া চলতে হওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দেয়।