বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ৭ পরামর্শ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং এরচেয়ে বেশি কিছু। এটি জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যা একজন শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে সফল হতে সাহায্য করে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এখনো শেষ করেনি, তাদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানেক্টিকাটের পিএইচডি স্কলার ও গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট শেখ ফরিদ 

সবার সঙ্গে মেশা

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখা যায়, যারা গ্রাম থেকে এসেছে তারা কেবল গ্রাম থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মেশে। আবার তারা শুধু নিজ এলাকার বন্ধুদের সঙ্গেই চলাফেরা করে। এতে করে অনেকের অ্যাটিচিউড আর কথাবার্তায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করলেও কোনো পরিবর্তন আসে না। তবে কারও বন্ধুবৃত্তে এই নানা ধরনের ছাত্রছাত্রীরা থাকলে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন ঘটে লক্ষণীয়ভাবে। এটা তার দৃষ্টিভঙ্গি ও যোগাযোগ দক্ষতায়ও অনেক প্রভাব ফেলে।

যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি

আপনি যে সেক্টরেই জব করতে চান না কেন, যোগাযোগ দক্ষতা আর নেটওয়ার্কিংয়ের বিকল্প নেই। ভালো লিখতে পারা, ভালোভাবে কথা বলতে পারার দক্ষতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্জন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করতে করতে আমাদের দুটি দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে।

স্কিল ডেভেলপমেন্ট

সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিলে আপনার কোনো দক্ষতা না থাকলেও চলে, এই চাকরি সরাসরি একটা চেয়ার দেয় এবং সঙ্গে প্রশিক্ষণও। তবে আপনি যে সেক্টরে চাকরি করতে চান না কেন, অন্তত ‘আপনি কী পারেন’ এই প্রশ্নের একটা উত্তর যেন থাকে। অন্তত একটা বিষয়ে যদি আপনি দক্ষ হতে পারেন, সেই দক্ষতা আপনাকে যেকোনো চাকরিতেই উন্নতিতে সহায়তা করবে।

অ্যাকাডেমিশিয়ান হতে চাইলে

যারা অ্যাকাডেমিক বিষয়ভিত্তিক ক্যারিয়ার গড়তে চান, মাস্টার্সের পরেই দেশের বাইরে পিএইচডির জন্য অ্যাপ্লাই করবেন। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য যথেষ্ট ফান্ড আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারা আর অ্যাকাডেমিশিয়ান হওয়া এক না। আপনি যদি আসলেই ভালো শিক্ষক হতে চান, ভালো গবেষক হতে চান, বাইরের দেশের একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আপনাকে নিতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আপনি হয়তো দেখছেন অনেকেই কোনো ভালো ডিগ্রি ছাড়া, কোনো অ্যাকাডেমিক কন্ট্রিবিউশন ছাড়া ছাত্রছাত্রী ও ওই বিষয়ের অন্য বিশেষজ্ঞদের সম্মান ও সম্ভ্রম অর্জন করতে পারবেন না। অ্যাকাডেমিশিয়ান হতে চাইলে সত্যিকারের অ্যাকাডেমিশিয়ান হন।

বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন

আপনি যদি আপনার সাবজেক্ট ভালো করে না পড়েন, বিষয় সম্পর্কে ভিত মজবুত না হয় তাহলে দয়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে যাবেন না। দেশের এত বড় ক্ষতি করবেন না। যোগাযোগ বা অর্থ দিয়ে এই জিনিস অর্জন করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হলে বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানুন। লাইব্রেরি ওয়ার্ক করুন, নিয়মিত সভাসেমিনারে অংশ নিন, প্রতিটি বিষয় জানার জন্য পড়ুন, নম্বরের জন্য নয়। বিষয়গত জ্ঞানের ভিত মজবুত হলে শিক্ষক হিসেবে আপনি শিক্ষার্থীদের সম্ভ্রম অর্জন করতে পারবেন, তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারবেন। তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেন। নইলে প্রশ্ন করাকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করে শাস্তি আর দুর্ব্যবহার দিয়ে তাদের প্রশ্ন করার ইচ্ছাকে দমন করবেন। ফলে তারা জ্ঞানান্বেষণে অনুৎসাহিত হয়ে পড়বে। এর ফল দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়াবহ। তাই শিক্ষক হতে চাইলে প্রথমে নিজের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে শানিত করুন।

প্রযুক্তির ব্যবহার

প্রযুক্তি ব্যবহারে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর এআই টুল ব্যবহার করতে পারেন না, একটা ডেটা অ্যানালাইসিস সফটওয়্যারও ব্যবহার করতে জানেন না, এই কথা যেন কারও কাছ থেকে শুনতে না হয়। আপডেটেড প্রযুক্তির ব্যবহার আপনাকে নিজে নিজেই শিখতে হবে।

ইংরেজি ভাষা শেখা

ইংরেজি ভাষা শেখা যে শুধু চাকরির জন্য কিংবা বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন তা না। পৃথিবীর সব তথ্য ও জ্ঞানের মাধ্যম এখন ইংরেজি। পৃথিবীর যত বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল তার অধিকাংশই ইংরেজি। প্রায়ই দেখি ‘গবেষণাভিত্তিক’ অনেক কিছুই অনেকে ফেসবুকে শেয়ার করেন। ভালো ইংরেজি জানার অভাবে চেক না করেই অনেকে তা শেয়ার করে। অথচ একটু গুগলে চেক করলেই জানা যায় তথ্যগুলো সত্য না মিথ্যা।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও অনুলিখন : শাহ বিলিয়া জুলফিকার