ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন
অধ্যাপক, শিশু বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
চেম্বার : আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর
শিশুদের পা অথবা হাত ব্যথা নিয়ে বাবা-মা প্রায়ই চিন্তিত হন। দেখতে পাওয়া যায় যে প্রায়ই শিশুদের এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে। প্রায় শতকরা ২০ জন শিশুর মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়।
যদিও নামকরণ করা হয়েছে এৎড়রিহম চধরহ কিন্তু শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির সঙ্গে এ রোগের কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রোয়িং পেইন একটি সহজ রোগ, যা সহজেই চিকিৎসা করা যায়। তবে এ রোগের সঙ্গে কিছু কিছু বিষয়ের প্রভাব উল্লেখ করা যেতে পারে।
পারিবারিক প্রভাব মানসিক চাপ বাঅস্থিরতা বেশি বেশি শারীরিক কর্মকা- যেমন- লাফালাফি, ঝাঁপাঝাঁপির সঙ্গে যোগসূত্র আছে। শিশুর অস্থির, শক্তি কম থাকে তাদের ক্ষেত্রেও এ ব্যথা বেশি বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
লক্ষণ
বয়স ৪-১২ বছর ছেলে-মেয়েশিশু উভয় সমানভাবে আক্রান্ত। সাধারণত সন্ধ্যা অথবা রাতে ব্যথার প্রকোপ দেখা যায়। স্থায়িত্ব ১০-৩০ মিনিট দুই পায়ের সামনে ঊরু, হাঁটুর নিচের সামনে-পেছনের মাংসপেশিতে এই ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথার তীব্রতা ক্ষেত্রভেদে হালকা থেকে তীব্রতর হতে পারে। এই ব্যথা মাঝে মাঝে অনুভূত হয় এবং
ব্যথামুক্ত সময়কালের ব্যবধান কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত আবার অনেকে প্রায় প্রতিদিনই এ ব্যথার অভিযোগ করতে দেখা যায়।
ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়
শিশুর ওজন বেড়ে যাওয়া। শিশুর অতিরিক্ত খেলাধুলা। শিশুর রক্তে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি কম দেখতে পাওয়া যায়।
চিকিৎসা
মাংসপেশিতে ম্যাসাজ করা। ব্যথানাশক ওষুধ প্যারাসিটামল আক্রান্ত স্থানে গরম পানির সেক দেওয়া যেতে পারে। অনেক সময় ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম রক্ত মেপে কম পাওয়া গেলে এই ওষুধগুলো খাওয়ালে ব্যথা উপসম হয়।
যখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
গিরাব্যথা, হাঁটুর মাংসপেশি ফুলে গেলে, জ্বর থাকলে। তীব্র ব্যথার জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া। তীব্র শরীরে জ¦রের সঙ্গে সঙ্গে লাল লাল দাগ দেখতে পাওয়া গেলে। শিশুর খাবারে অনীহা এবং ওজন কম থাকলে।
গ্রোয়িং পেইন আক্রান্ত শিশুর লক্ষণগুলো সুনির্দিষ্ট, তাই চিকিৎসক সহজেই এসব শিশুকে চিহ্নিত করতে পারেন। প্রথমে তাই বাবা-মাকে এই রোগের খুঁটিনাটি বুঝিয়ে বলতে হবে যে, এটি একটি সাধারণ অসুখ। শিশুর বয়স বাড়তে থাকলে এটি ভালো হয়ে যাবে।