চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে সাত ঘণ্টা অবরোধের পর ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড় ছেড়ে গেছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মীরা। গতকাল শনিবার শাহবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের অবরোধ ঘিরে বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল। এতে পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে যানজট। ফলে ভোগান্তির শিকার হয় নগরবাসী। বিকেল ৫টার দিকে আউটসোর্সিং কর্মীরা শাহবাগ ছেড়ে গেলেও যানচলাচল স্বাভাবিক হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগে।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে ‘আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’-এর ব্যানারে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আউটসোর্সিং কাজে নিযুক্ত শত শত কর্মী। বিকেল ৪টার আগে তাদের সাতজনের একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যায়। সেখানে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা। সেখান থেকে ফিরে বিকেল ৫টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান আনিস বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের দাবি আদায়ে কাজ করবেন। সংস্কার কমিটির মাধ্যমে এটি করা হবে। ভবিষ্যতে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের সঙ্গে বৈষম্য হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে দাবি না মানা হলে তিনি বড় কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তবে ফোনে কল এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিং নীতিমালা বাতিল এবং আউটসোর্সিং, দৈনিকভিত্তিক ও প্রকল্পে কর্মরতদের বহাল রেখে বয়স শিথিল করে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা। একই দাবিতে গতকালও তারা শাহবাগে জড়ো হলে সেখানে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দুপুরে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি শাহবাগ মোড়ে এসে অবরোধকারীদের প্রতি সংহতি জানান। তাদের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সাকি বলেন, ‘অবিলম্বে যেন তাদের কথা শোনা হয় এবং দাবি বাস্তবায়নে কী ধরনের পদক্ষেপ আপনারা নিতে পারেন তাদের আশ্বস্ত করুন। এই সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার না, এই সরকার জনগণের সরকার। আমি আশা করব, অবিলম্বে এই দাবির সুরাহা হবে।’
অবরোধ চলাকালে আউটসোর্সিং খাতে নিয়োজিত কর্মীরা বেশ কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, টেন্ডার জটিলতায় কর্মরত অনেকের চাকরি চলে যায়, বছর শেষে জুন মাসে নবায়ন করার নামে বিপুল অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়, ঘুষ না দিলে চাকরি চলে যায়। এ ছাড়া প্রতি মাসে বেতন না পাওয়া, কখনো কখনো পাঁচ থেকে ছয় মাস আবার এক থেকে দুই বছরও বেতন বকেয়া থাকে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
অবরোধের কারণে সায়েন্স ল্যাব, মৎস্য ভবন, বাংলা মটর থেকে শাহবাগমুখী রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশায় বসে ত্যক্ত-বিরক্ত হতে দেখা গেছে।
অবস্থানকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে শাহবাগ ছাড়ার পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মুনসুর। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বলেন, ‘তারা যমুনা থেকে ফিরে দাবি মেনে নিতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে শাহবাগ ছেড়ে চলে গেছেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে যানচলাচলসহ সব কিছু স্বাভাবিক হয়েছে।’