ছয় সপ্তাহের বকেয়া মজুরির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ফাড়িসহ দেশের ১৮টি চা বাগানের শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এনটিসির মালিকানাধীন ৫টি বাগানের শ্রমিকরা পাত্রখোলা চা বাগানের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন পালন করে।
এ সময় বুধবারের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেয় চা শ্রমিকরা। এর আগে গত সোমবারও কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি পালন করে তারা।
মঙ্গলবারের মানববন্ধনে কমলগঞ্জের পাত্রখোলা, কুরমা, চাম্পারায়, মদনমোহনপুর ও মাধবপুরের চা শ্রমিকরা অংশ নেন। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে চা শ্রমিকরা বলেন, ‘তাদের ছয় সপ্তাহের মজুরি বকেয়া আছে। মজুরি না পেয়ে অর্থকষ্ট নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। মালিকপক্ষ বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করলে তারা কাজে ফিরবে না।’
মদনমোহনপুর চা বাগানের নারী শ্রমিক আরতি কাহার, বিনতি বাকতি, কুরমা চা বাগানের নারী চা শ্রমিক শিল্পী বুনার্জী ও চাম্পারায় চা বাগানের শ্রমিক আপন বুনার্জী বলেন, ‘ছয় সপ্তাহ ধরে মজুরি নাই। পূজার আগে বলল মজুরি দিয়ে দিবে। কিন্তু আমাদের মজুরি দেওয়া হল না। টাকা না পেলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে, না খেয়ে মরতে হবে। আমাদের মজুরির সমস্যা সমাধান না হলে আমরা কাজে যোগ দেব না। সারাদিন কষ্ট করে কাজ করে মজুরি না পেলে জীবন কী করে চলবে।’
পাত্রখোলা চা বাগানের যুব নেতা প্রদীপ পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের চা শ্রমিকদের ঘরে খাবার নেই। তারা অনেক কষ্ট করে চলছেন। এখন পেটে খিদা নিয়ে শ্রমিকেরা কাজ করবেন কীভাবে? যদি অনতিবিলম্বে বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হয়, তবে চা বাগানগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে, কঠোর অবস্থানে যাবে চা শ্রমিকরা।’
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এনটিসির মালিকানাধীন চা বাগানগুলোর মজুরি সমস্যার বিষয়ে এর আগেও আন্দোলন করেছেন শ্রমিকরা। জেলা প্রশাসকের কাছেও আমরা গিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধানের পথ হয়নি। চা শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের সাথে আছে।’