ব্যবসায়ী তাহসিন হত্যা, ২৪ ঘণ্টা পার হলেও মামলা দায়ের হয়নি

চট্টগ্রাম নগরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আফতাব উদ্দিন তাহসিন (২৬) নামের এক ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার পারেনি পুলিশ। খুনের ঘটনায় মামলাও দায়ের হয়নি। সাজ্জাদ নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা-সংলগ্ন হাটহাজারী উপজেলা শিকারপুরের মো. জামালের ছেলে।

তাহসিন খুনে জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ।  

সোমবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে চান্দগাঁও থানার শমসের পাড়া এলাকায় ইট, বালু ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন তাহসিনকে (২৬) প্রকাশ্যে মাইক্রোবাসে করে এসে গুলি করে খুন করে সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেনের গুলিতেই তাহসিন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আবদুল মান্নান মিয়া। 

নগরের চান্দগাঁও শমসের পাড়ার ব্যবসায়ী তাহসিনসহ গত ৫৩ দিনে হাটহাজারীর কুয়াইশ ও নগরের অক্সিজেন এলাকার অনন্যা আবাসিকে তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাজ্জাদ সরাসরি জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।  
অস্ত্রসহ গত ১৭ জুলাই গ্রেপ্তার হন সাজ্জাদ হোসেন। এক মাস পর জেল থেকে বেরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। এলাকায় একের পর এক খুন করে গেলেও সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। 

নিহত তাহসিনের বাবা মো. মুসার  অভিযোগ, সন্ত্রাসী সাজ্জাদকে পুলিশ ধরছে না। চাহিদামতে চাঁদা না দিলে কথায় কথায় গুলি ছোড়েন সাজ্জাদ। যার ধারাবাহিকতায় সোমবার আফতাবকে গুলি করে খুন করে সাজ্জাদ ও তার সহযোগীরা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও পরিবার জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে এসে গুলি করে চলে যান। আশপাশে লোকজন থাকলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। নিহত আফতাব ইট, বালুর ব্যবসা করতেন।

ভারতে পলাতক শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত আরেক সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই সাজ্জাদ। অপরাধ জগতে পা রেখেই দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির ১০টি মামলা রয়েছে।