'বড় আপুরা ভাল খেলতে পারলে ভারতকে হারাবো'

পাকিস্তানকে হারাতে না পেরে যেন পথ ভোলা পথিকে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারীদের সেমিফাইনালই এখন অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা। সে চাদর সরিয়ে শেষ চারে যেতে বুধবার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হবে এক বিভাজিত বাংলাদেশ! আগের আসরে ভারতকে গ্রুপ পর্বে ৩-০ গোলে হারানো বাংলাদেশকে শিরোপা ধরে রাখতে হলে এই ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে টানতে হবে যে করেই হোক।

এ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তিন পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে ভারত। রবিবার ১-১ ড্রয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সমান ১ পয়েন্ট করে। তার মানে বাংলাদেশকে ছাপিয়ে সেমির টিকিট মিলতে পারে পাকিস্তানেরও। তবে আজ জিতলে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাই্নালে যাবে সাবিনারা। ড্র হলে যাবে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে। হারলেও মিলতে পারে সেমির ছাড়পত্র। সেক্ষেত্রে হারের ব্যবধানটা ৩ গোলের কম হতে হবে।

দুঃসংবাদ হলো এমন সমীকরণের ম্যাচের আগে বাংলাদেশের শিবিরের অন্তর্দাহ ফুটে উঠেছে। ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলারের সিদ্ধান্তে দলটা এখন সিনিয়র-জুনিয়র দুই ভাগে বিভক্ত। বাটলারের আস্থা জুনিয়রে। যা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে এতদিন দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া সিনিয়রদের। সেটা পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীনও কোচকে বোঝাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন সাবিনা, মনিকা, মারিয়া, সানজিদা, মাসুরারা। কোচের একটাই কথা, তারুণ্যেই মিলবে মুক্তি-সাফল্য। যদিও তার এই ভাবনায় বড় লজ্জা পেতে নিয়েছিল বাংলাদেশ। যে পাকিস্তানকে গত আসরেই ৬-০ গোলে হারিয়েছে, তাদের কাছেই হেরে বসতে নিয়েছিল। যোগ করা সময়ে সামসুন্নাহার জুনিয়র গোল না করলে এক পয়েন্ট যেমন জুটতো না, সেমিফাইনালের স্বপ্নও বাচিয়ে রাখা যেতো না। 

কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দল

শেষ পর্যন্ত লজ্জা থেকে বাঁচলেও আজকের অঙ্ক মেলানো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জের আগে আবার কোচ দলকে বারণ করে দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে। আসলে আগের দিন মনিকা চাকমা সরাসরি কোচকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। কোচ সিনিয়র কয়েকজনকে পছন্দই করেন না- এমন বক্তব্যে বোমা ফাটিয়েছিলেন মনিকা। ম্যাচ চলাকালে কোচকে সিনিয়রদের নামানোর জন্য অনুরোধও করা হয়েছিল। ম্যাচের পরেও বলা হয়েছে, সাফ শিরোপা ধরে রাখতে হলে অভিজ্ঞদের সার্ভিস ভীষণ প্রয়োজন। বিশেষ করে মাঝমাঠের দীর্ঘদিনের সঙ্গী মারিয়া মান্ডার না থাকাটা ভীষণ ভুগিয়েছিল মনিকাকে। এছাড়া রক্ষণভাগে মাসুরা পারভীন ও রাইট উইঙ্গার সানজিদাকে না খেলানোটা ভুগিয়েছে গোটা দলকে। 

এসব নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার টিম হোটেলে গিয়ে হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশ থেকে কাঠমান্ডুতে যাওয়া সংবাদকর্মীদের। তাদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তরুণ মিডফিল্ডার মুনকি আক্তারকে। মুনকি অবশ্য ভারত বধে আস্থা রাখছেন সিনিয়রদের ওপর, 'আমরা কোন সমীকরণের মধ্যে জড়াতে চাই না। ভারতের বিপক্ষে কয়েকটি পরিবর্তন হবে। আমাদের বিশ্বাস সিনিয়র আপুরা ভাল খেলতে পারলে জিতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে পারব। কোচ এবং বড় আপুরা বলেছেন, কোন চাপ নেওয়ার কিছু নেই। ভাল খেলতে হবে। আমরা ট্রফি নিতে এখানে এসেছি।’ 

পাকিস্তানকে হারিয়ে ভালো অবস্থানে থেকে আজ মাঠে নামবে ভারত। তাদের আছে আগের আসরে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার তাড়না। তবে বাংলাদেশের প্রতি সমীহ ঝড়েছে ভারতের কোচ সন্তোষ কুমার কশ্যপের কথায়, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেও জয় পায়নি বাংলাশে, এতে আমি অবাক হয়েছি। এই দলটি দূর্দান্ত এটা আমি জানি।’

বাঁচা মরার লড়াই বলেই বাটলার খুব সম্ভবত পরীক্ষিতদের দিয়েই সাজাবেন আজকের একাদশ। অনুশীলণ দেখে বোঝা গেছে আজ শুরু থেকেই সাবিনা, তহুরাদের সঙ্গে মাঠে থাকবেন মাসুরা, কৃষ্ণা রানী সরকার, মারিয়া মান্দারা। আগের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল করা সামসুন্নাহার জুনিয়র কপালে আঘাত পাওয়ায় হয়তো মাঠে আসবেন বদলী হিসেবে।