পাকিস্তানের ৩০তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদির। তিন বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি বর্তমান প্রধান বিচারপতি কাজী ফয়েজ ইসার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
বুধবার (২৩ অক্টেবার) প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি আফ্রিদিকে সংবিধানের ধারা ১৭৫এ(৩), ১৭৭ এবং ১৭৯ অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২৬ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
জিও নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি নিয়োগের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি বিচারপতি আফ্রিদির মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে কমিটি তার সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে পাঠায় এবং প্রেসিডেন্ট তা অনুমোদন করেন।
৩০তম প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি
বিচারপতি আফ্রিদি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৫ সালের ২৩ জানুয়ারি, ডেরা ইসমাইল খান শহরে। লাহোরে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে স্নাতক করেন। পরে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পেয়ে বিচারপতি আফ্রিদি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসাস কলেজ থেকে এলএলএম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব লিগ্যাল স্টাডিজে তরুণ কমনওয়েলথ আইনজীবীদের বৃত্তি প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচিত হন।
বিচারপতি আফ্রিদি আইনপেশা শুরু করেছিলেন পেশোয়ারে। একটি কলেজের প্রভাষকও ছিলেন যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক আইন, শ্রম আইন এবং প্রশাসনিক আইন পড়াতেন। ১৯৯০ সালে তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী এবং ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০১০ সালে বিচারপতি আফ্রিদি পেশোয়ার হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হন এবং ২০১২ সালে হাইকোর্টের বিচারক হন। ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর পেশোয়ার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন আফ্রিদি। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে পদোন্নতি লাভের আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন।
২৬তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিল
পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি নিয়োগের এই পদ্ধতি প্রথমবারের মতো বিতর্কিত ২৬তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিল কার্যকর হওয়ার পরে গৃহীত হয়েছে। নতুন নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন জ্যেষ্ঠ বিচারকের মধ্য থেকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিশেষ সংসদীয় কমিটির সুপারিশে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিধান করা হয়েছে।
কমিটিতে সংসদের সব রাজনৈতিক দলের সদস্যদের অংশগ্রহণ রয়েছে। বিরোধী ও ক্ষমতাসীন উভয়পক্ষের সিনেটর ও জাতীয় পরিষদের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তবে প্রধান বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বিশেষ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত সপ্তাহে বিতর্কিত বিচারিক সংস্কার বিলটি সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করায় ক্ষমতাসীন জোট। বিলের পক্ষে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পাকিস্তানি সংসদের নিম্নকক্ষে ২২৫ এবং উচ্চকক্ষে ৬৫ ভোট পড়ে। তবে শুরু থেকেই এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিরোধিতা করে আসছে পিটিআই। এমনকি ক্ষমতায় গেলে এই আইন বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।