ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবিলায় বাগেরহাটে ৩৫৯ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবেলায় উপকূলীয় বাগেরহাটে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। ঝড় মোকাবিলায় জেলার ৩৫৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবে দুই লাখ ৬ হাজার মানুষ।

এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকার মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে আড়াই হাজারের অধিক রেডক্রিসেন্ট ও সিপিপি’র স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করেছে জেলা প্রশাসন। মজুদ রাখা হয়েছে শুকনা খাবার, নগদ টাকা ও চাল। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদে থাকতে বলা রয়েছে।

প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিমধ্যে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে ভিডিও সভা করেছেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনও প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে।

অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর দূরবর্তি সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বন্দরে এক নম্বর এলার্ট জারি করা হয়েছে। মোংলা বন্দরের অবস্থান নেয়া জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।

জেলা মৎস্যজীবী নেতা শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে জেলেরা কুলে ফিরতে শুরু করেছে। জেলেরা আগের থেকে এখন অনেক সচেতন। তবে এই জেলেরা যখন গভীর সমুদ্রে থাকে তখন হঠাৎ কোন দুর্যোগ আসলে তারা কোন খবর পায় না। তাই সাগরে মাছ ধরা জেলেদের সাথে যোগাযোগের আধুনিক ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি জানান এই মৎস্যজীবী নেতা।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল-বিরুনী বলেন, বাগেরহাট জেলায় ৩৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হয়েছে। এই ৬৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া অন্য পোল্ডারগুলোর বেশ কিছু পয়েন্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা সেগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও জিওব্যাক প্রস্তুত রেখেছি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ইতিমধ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। পর্যাপ্ত চাল ও নগদ অর্থ মজুদ রয়েছে। জেলার সকল সাইক্লোন সেল্টারগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার জনগনকে সরিয়ে নেয়ার প্রচারণা শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সবার সহযোগিতা নিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার সাইফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ঝড় মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ সভা করেছে। সভা থেকে বন্দরের সব নৌযানগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মোংলা বন্দরে এক নম্বর এলার্ট জারি করা হয়েছে। দেশি বিদেশি নিয়ে ৮টি জাহাজ বন্দরে অবস্থান করছে। বন্দরে থাকা জাহাজগুলোতে পণ্য ওঠানামার কাজ কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে। আমরা ঝড়ের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।