সামাজিক যোগাযোগেরমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার পটুয়াখালী পৌরসভার কাঠপট্টি এলাকার তালতলী রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) পটুয়াখালী পৌরসভার কাঠপট্টি এলাকার তালতলী রোডে এ ঘটনা ঘটে।
আফরোজা আক্তার খাদিজা (২৫) পটুয়াখালী করিম মৃধা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা যায়, অনেক বছর ধরে একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল নিহত খাদিজা আক্তারের। কিন্তু কিছুদিন ধরে খাদিজার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় সেই ছেলে। মাঝে মাঝে যোগাযোগ করলেও প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। যার কারণে খাদিজা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। বুধবার দুপুর ১টার দিকে ফেসবুকে প্রেমিকের কথা উল্লেখ করে পোস্ট দেন খাদিজা। পরে দুপুর ২টায় নিজ ঘরে পরনের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
আরও জানা যায়, আত্মহত্যার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘরে ছিলেন না। খাদিজাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তার ছোট ভাই চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খাদিজা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি তাকে ভালোবাসছিলাম। শুনছিলাম পুরুষ মানুষ ভালোবাসা পাইলে কিছু চায় না। তুমি আমাকে কীভাবে ছোট করলা? কীভাবে? আমি তোমার জন্য কি না করছি? কি না করছি তোমাকে ভালোবেসে? আজ আমাকে…বানাইলা। আমি কোনোদিন কল্পনা করি নাই এই প্রতিদান তুমি দিবা। আমি তো সরে গেছিলাম। কেন আসছো আবার? আমার শখের পুরুষ আমাকে দুনিয়া ছাড়তে বাধ্য করছে। দোষ তার না, দোষ আমার। আমি তাকে ভালোবাসছি, আমার দোষ। আমি তাকে প্রাধান্য দিছি। ভালো থাকো, আমার ভালোবাসা। তোমার ভালো থাকার জন্য, এই আয়োজন। আমাকে মাফ করবা মা, আমি তোমার ভালো মেয়ে হইতে পারি নাই। আমার কাফনের কাপড়ের টাকা আমার ব্যাগে মা।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরে আইনিপ্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।