গলছে চীন-ভারত সম্পর্কের বরফ

লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের চার বছর পর দুদেশের নেতা শেষ পর্যন্ত বৈঠক করলেন। প্রায় পাঁচ বছর পর লাদাখের বিতর্কিত সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় টহলদারি নিয়ে সংকট কাটতেও চলেছে। এ ক্ষেত্রে অঞ্চলটির পূর্বাঞ্চলে ভারত ও চীনের সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ২০২০ সালে লাদাখে ওই সংঘর্ষের পর থেকেই চীন-ভারত সম্পর্ক একরকম তলানিতে ঠেকেছিল। তারপর এই প্রথম গত বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসলেন রাশিয়ায় কাজানে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে। অবশ্য দুই পক্ষই লাদাখে সমঝোতা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল আরও আগেই। গত বুধবার রাশিয়ার কাজানে মোদি এবং শি দুজনই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দুদেশের মধ্যে সংলাপ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কয়েক দশকের উত্তেজনায় চীন-ভারত সম্পর্ক প্রভাবিত হয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, ভালোভাবে চিহ্নিত না থাকা ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিরোধপূর্ণ সীমান্ত। সীমানা রেখা ভালোভাবে চিহ্নিত না থাকায় চীন ও ভারতের সেনারা অনেক জায়গাতেই মুখোমুখি হয়ে যায় এবং সময় সময় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।

ভারত ও চীনের মধ্যে ১৯৬২ সালে সীমানা নিয়ে বিরোধ থেকে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল। সেবার চীন তিব্বত দখল করার পর ভারতের বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চীনকে চীনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা বলে দাবি করে বেইজিং। এভাবে যে সীমান্ত সমস্যা শুরু হয় তা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের পট প্রস্তুত করে। ২০১৯ সালে ভারত সংবিধানের ৩৭০ আর্টিকেল বিলুপ্ত করে ভারতশাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিলে চীন এর নিন্দা জানিয়েছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সেনাদের মধ্যকার সংঘাতই ছিল কয়েক দশকের মধ্যে দুপক্ষে সবচেয়ে বাজে সংঘাত। সেই সংঘাতে ২০ ভারতীয় সেনা এবং চার চীনা সেনা নিহত হয়েছিল।

ওই বছরের শেষদিকে দুদেশ বিরোধপূর্ণ সীমান্তের কিছু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় এবং উত্তেজনা প্রশমনের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তেজনাকরই রয়ে যায়। ২০২১ সালে উত্তরের সিকিম এবং ২০২২ সালে সীমান্তের তাওয়াং সেক্টরে দুপক্ষের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। সামরিক অচলাবস্থার কারণে ভারত ও চীনের মধ্যকার ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে এবার দুদেশই শান্তি চাইছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মোদি-শি বৈঠক করেছেন। সীমান্ত থেকে সরানো হচ্ছে সেনা।