আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এর মধ্যেই দেশটির প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকশন ল্যাবের তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রায় আড়াই কোটি ভোটার ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছেন। কেউ সশরীরে ভোট, আবার কেউ ডাকযোগে ভোট পাঠিয়েছেন।
দোদুল্যমান রাজ্য নর্থ ক্যারোলিনা ও জর্জিয়াসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য গত সপ্তাহে আগাম ভোট শুরু হয়। যার প্রথম দিনে রেকর্ড ভোট পড়েছে। সেক্রেটারি অব স্টেটের চিফ অপারেটিং অফিসার গ্যাবে স্টার্লিংয়ের মতে, ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন জর্জিয়ায় জিতেছিলেন, সেখানে ২৫ শতাংশেরও বেশি সক্রিয় ভোটার ইতিমধ্যে তাদের ভোট দিয়েছেন।
আর হারিকেন হেলেনের আঘাতে বিধ্বস্ত নর্থ ক্যারোলিনায় আগাম ভোটের প্রথম দিন (১৭ অক্টোবর) ৩ লাখ ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। নর্থ ক্যারোলিনা স্টেট বোর্ড অফ ইলেকশনের মতে, এই সংখ্যাটি আগাম ভোটের প্রথম দিনের পূর্ববর্তী রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২০ সালে তা ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি।
জর্জিয়ায় আগাম ভোট ১ নভেম্বর এবং নর্থ ক্যারোলিনায় ২ নভেম্বর পর্যন্ত আগাম ভোট চলবে। আরেক ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য নেভাদায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের তথ্যানুসারে, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন। এই ভোটদাতাদের ৪০ শতাংশই হচ্ছেন নিবন্ধিত রিপাবলিকান।
এনবিসি নিউজ বলছে, সারা দেশে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রায় ৪৩ শতাংশ নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট, অন্যদিকে ভোটদাতাদের ৩৯ শতাংশ হচ্ছেন নিবন্ধিত রিপাবলিকান।
এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার পেনসিলভানিয়ায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন আয়োজিত এক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে বাইডেন প্রশাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন না। এছাড়া মধ্যবিত্তদের কল্যাণের জন্য দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
একই দিন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আরেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য জর্জিয়ায় প্রচারণাকালে আগাম ভোট প্রসঙ্গে বলেন, প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে এবং এতে রিপাবলিকান দল ভালো করেছে।
এদিকে ট্রাম্প তার অভিবাসন বিরোধিতার আরেক নমুনা দেখালেন গত বৃহস্পতিবার। সেদিন অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প বলেন, আমরা একটি আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছি। বাকি বিশ্বের জন্য আমরা একটি ময়লার ভাগাড়।
সিএনএন বলছে, আবর্জনা শব্দের মাধ্যমে অভিবাসীদের প্রতি ইঙ্গিত করেন এই রিপাবলিকান প্রার্থী। কট্টর অভিবাসীবিরোধী অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এর আগে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে ডেমোক্রেটিক শিবির।
বৃহস্পতিবার অভিবাসী প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, প্রতিবার মঞ্চে উঠে যখন বলার চেষ্টা করি তারা (অভিবাসীরা) আমাদের এই দেশের কী হাল করেছে, আমার মধ্যে চলে আসে। আমি ক্ষেপে যাই। কিন্তু এবারই প্রথম ময়লার ভাগাড় কথাটা বললাম। (আমার মতে) এটা খুবই নিখুঁত বিবরণ।
সিএনএন জানায়, ২০১৬ সালের নির্বাচন থেকেই অভিবাসীদের বর্ণনা দিতে চরম অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করে আসছেন ট্রাম্প। এবারের নির্বাচনী প্রচারে অভিবাসীদের পশু, সন্ত্রাসী, অপরাধী, গ্যাং সদস্য বলেও অভিহিত করেছেন তিনি। অভিবাসীরা মার্কিন জীবনধারাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, এমনটাই দাবি করে এসেছেন ট্রাম্প।