চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর একটি হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন জাহেদ ওরফে নাবিদ এবং পুলিশ কনস্টেবল ইরফান হোসেন।
গত ৩ অক্টোবর দুপুরে আনোয়ারার বৈরাগ চায়না ইকোমিক জোন এলাকার পরিত্যক্ত ব্রিকফিল্ড থেকে এক নারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বৈরাগ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন।
লাশ উদ্ধারের পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই করে ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করে পিবিআই। খুনের শিকার হওয়া নারীর নাম আমেনা বেগম (৩৩)। তার বাবার নাম কামাল উদ্দিন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানাধীন নাগেরকান্দি এলাকায়। থাকতেন চট্টগ্রাম নগরের বলুয়ার দিঘীরপাড় এলাকার আবুল কালাম সওদাগর কলোনীতে।
চাঞ্চল্যকর খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসআই মো. শাহাদাত হোসেন।
গত ১৮ অক্টোবর বিকালে আমেনা হত্যা মামলায় আসামি চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ হাজীপাড়া এলাকার সুলতান আহমেদের ছেলে মো. জাহেদ ওরফে নাবিদকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
নাবিদ পিবিআইকে জানান, তিনিসহ ভিকটিমের স্বামী ইয়াছিন আরাফাত, ইরফান হোসেন বন্ধু। ইয়াছিন আরাফাত আরেকটি বিয়ে করলে জেনে যান আমেনা বেগম। এই নিয়ে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টির আশঙ্কায় আমেনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমেনাকে বেড়ানোর কথা বলে সোহেলের প্রাইভেট কারে শহরের কালামিয়া বাজার থেকে আনোয়ারা থানার মোহাম্মদপুর গ্রামে মো. ইরফান হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখান থেকে আমেনাকে কৌশলে নিকটবর্তী চায়না ইকোমিক জোন সংলগ্ন পাহাড়ে নিয়ে যান স্বামী ইয়াছিন আরাফাতসহ তার সহযোগীরা। এরপর পেটে ছুরিকাঘাত করে আমেনাকে খুন করে তারা। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত ব্রিকফিল্ডে লুকিয়ে রাখেন।
ঘটনার পর পর স্বামী ইয়াছিন বিদেশে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. জাহেদ ওরফে নাবিদের স্বীকারোক্তি মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ভিকটিমকে বহনকারী প্রাইভেট কারটি পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে জব্দ করা হয়।
আসামি মো. জাহেদ নাবিদ চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন মুস্তাকিম তাসিনের আদালতে এবং আসামি পুলিশ কনস্টেবল ইরফান হোসেন চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালতে আমেনা বেগম খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন।