ওয়াটার ইনটক্সিকেশন

পানি কম পানে শরীরে ডিহাইড্রেশন তৈরি হয়। ডিহাইড্রেশন জীবন ঝুঁকির কারণ হতে পারে। আবার পানি বেশি পানে ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত পানি কিডনি ছেঁকে বার করতে পারে না, ফলে কোষে কোষে সেই পানি জমে শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করে। বেশি পানি খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। চাহিদার তুলনায় বেশি পানি পান কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে। চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে ওয়াটার ইনটক্সিকেশন বলে। অনেকেই আছেন তৃষ্ণা পায় না। তারপরও পানি পান করেন। যার ফলে রক্তে সোডিয়ামের ঘনত্ব দ্রুত কমে যায়। এই অভ্যাস শরীরের জন্য বিপজ্জনক। সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৩ - ৪ লিটার পানি পান জরুরি। তবে তিনি কতটা শরীরিক পরিশ্রম করছেন তার ওপরে। এক্ষেত্রে পরিশ্রম কম করেন অথচ দিনে ৬ থেকে ৭ লিটার পানি পান করেন তাহলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হবে। রক্তে সোডিয়াম ও অন্য খনিজ লবণের মাত্রা কমে যাবে। যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে শরীরের নানা অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। অতিরিক্ত পানি শরীরে জমে হাত-পা, গোড়ালি  ফোলা। পেটে পানি জমে চাপ দেবে যকৃৎ ও পাকস্থলীকে। শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য বিগড়ে যাবে, তখন হরমোনের সমস্যাও দেখা দেয়। দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পর্যন্ত পানি পান করা উচিত, যদি কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে। তবে ঘণ্টায় ১ লিটারের বেশি পানি পান না করাই ভালো। চিকিৎসকের মতে, শরীরে ৫০-৬০ ভাগ পানি থাকে। পানি, খনিজ লবণ ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকলেই শরীর সুস্থ থাকে। ভারসাম্য যদি নষ্ট হলে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়।