টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঋণ দেওয়ার নামে তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। কারা, কীভাবে ঋণ দেবে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না এলাকার সাধারণ মানুষ। কিছু না বুঝেই ঋণ পাওয়ার প্রলোভনে ব্যক্তিগত তথ্য চক্রের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজি অব বাংলাদেশের প্রধান কর্মকর্তা আল হাসান মিলাদ জানান, এসব তথ্য ব্যবহার করে সাইবার জগতের অপরাধীরা যেকোনো সময় ফাঁসাতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামের একটি অপরিচিত সংগঠন থেকে এক লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে বলে গুঞ্জন উঠে। তবে তাদের অফিস কিংবা ঠিকানা কী সে ব্যাপারে কেউই নিশ্চিত নন। এমন প্রলোভনে প্রতিদিন হাজারও মানুষ ছুটে যাচ্ছেন উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে। সেখানে মনির, তার স্ত্রী এবং জাহাঙ্গীর নামে এক যুবক পূরণ করে নিচ্ছেন ঋণের ফরম। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এ কার্যক্রম।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকার কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নাম করে প্রতিজনকে এক লাখ থেকে এক কোটি টাকা করে ঋণ দেওয়ার কথা জানান ওই মনির। এরপর থেকেই হাজার হাজার নারী-পুরুষ ওই বাড়িতে ছুটে আসছেন ফরম পূরণের জন্য।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাশের গ্রামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে লোক মারফত জেনেছি, এক লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়া হবে। এজন্য মোবাইল নম্বর ও ভোটার আইডির নম্বর লাগবে। আমার গ্রামের অনেক নারী এসে ফরম পূরণ করে গেছেন।’ কবে, কারা, কীভাবে এই টাকা দেবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুই বলতে পারেননি ওই নারী।
ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া অন্তত ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু বহুরিয়া ইউনিয়ন নয়, উপজেলার অনেক দূরের গ্রাম থেকেও মানুষ দলে দলে এসে বিনা সুদে ঋণ পাওয়ার আশায় নিজেদের স্বাক্ষর এবং ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সরকার থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এসব ঋণ দেওয়া হচ্ছে বলে তাদের জানিয়েছে।
তারা আরও জানান, ‘অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের আঞ্চলিক সংগঠক হিসেবে বেশ কিছুদিন ধরে তারা এ কাজ করছেন। গত দুদিনে অন্তত এক হাজার মানুষের স্বাক্ষর, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তারা।
কবে নাগাদ এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই চক্রের সংগঠক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এই টাকা পরিশোধের কোনো সময়সীমা নেই। কিছুদিন পরেই সবাইকে নিয়ে একটা মিটিং করব, সেখান থেকে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে সবাইকে জানানো হবে।
এ সময় ওই চক্রের সদস্য মনির বলেন, ‘দেশের পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে এনে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। আমাদের হেড অফিস মির্জাপুরের কাকলী মোড়ে। আমি এই এলাকার সংগঠকের দায়িত্বে আছি। ফরম পূরণ করা শেষ হলে আমরা কাগজপত্র হেড অফিসে পাঠিয়ে দেব। সেখান থেকে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ঋণ প্রদান করা হবে।’
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং ইন্টারন্যাশনাল টেকনোলজি অব বাংলাদেশের প্রধান কর্মকর্তা আল হাসান মিলাদ বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে দেওয়া উচিত নয়। কারণ এসব তথ্য ব্যবহার করে সাইবার জগতের অপরাধীরা যেকোনো সময় ফাঁসাতে পারে।’ তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সখীপুর থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’