মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও মীরকাদিম পৌরসভায় কাটছে না গ্যাসের সংকট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ থাকার কারণে বাসাবাড়িতে টিমটিম করে জ¦লছে চুলার আগুন। তাতে ভাত-তরকারি রান্না করা তো দূরের কথা সামান্য পানি গরম করতেই পেরিয়ে যাচ্ছে ঘণ্টাখানেক সময়। ফলে রেস্তোরাঁর খাবারে ভরসা এখন ঘরে ঘরে। আবার অনেকে মাটির চুলায় লাড়কি পুড়িয়ে সারছেন রান্নাবান্না। কারও কারও ঘরে তিতাস গ্যাসের অভাব পূরণ হচ্ছে সিলিন্ডারের এলপিজি গ্যাসে। গ্যাসের অভাবে ধুঁকছে এখানকার প্রায় ১৪ হাজার আবাসিক গ্রাহক।
গতকাল শনিবার ছুটির দিনেও মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়া, মানিকপুর, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, দেওভোগ, খালইস্ট এলাকায় গ্যাস সংকটের চিত্র দেখা গেছে। বাড়িতে সংযোগ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার গৃহিনী নাসিমা বেগম (৩৫) প্রতিদিনই রান্না ঘরের বাইরে মাটির চুলায় রান্না সারেন। তিনি জানান, সকাল দুপুর কিংবা রাত কোনো বেলায়ই গ্যাস মিলছে না। মাঝেমধ্যে সামান্য গ্যাস এলেও তাতে টিমটিম করে চুলা জ¦লে। এতে করে রান্না করা যায় না। খাবার রান্না করা এখন দুষ্কর হয়ে উঠেছে।
শহরের মানিপুর এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী শহীদ-ই-হাসান তুহিন বলেন, ‘একদিকে গ্যাসের চাপ নেই, অন্যদিকে শহরের মানিপুর এলাকার প্রধান সড়ক জুড়ে গ্যাস সঞ্চালন লাইনের পাইপে অসংখ্য ফুটো থেকে নির্গত হচ্ছে গ্যাস। এসব ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তাই গ্যাস পাইপলাইনের ফুটো দ্রুত সারাতে পারলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে।’
মালপাড়া এলাকার গৃহবধূ শামীমা নাসরিন বেলী (৪৬) বলেন, ‘দিনরাত মিলে ২৪ ঘণ্টাই গ্যাস সংকটে ভুগছি। গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে, চুলায় টিমটিম করে আগুন জ¦লে। তাতে রান্নাবান্না করা বেশ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
মুন্সীগঞ্জ নাগরিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের সরবরাহ দিনদিন কমছে। গ্যাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যেহেতু তিতাস কর্তৃপক্ষ বাসাবাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, তাই আবাসিক লাইনগুলোর বিল নেওয়া বন্ধ রাখার দাবি জানাই।’
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি মুন্সীগঞ্জের ব্যবস্থাপক শাহ্ এমদাদ হোসেন জানান, মুন্সীগঞ্জ সদরে গ্যাসের আবাসিক গ্রাহক আছেন ১৩ হাজার ৯৫৭ জন। এখানে ৭১ লাখ ঘনমিটার গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। অথচ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৩৪ লাখ ঘনমিটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম পরিমাণ সরবরাহ পাই। গ্রাহকরা গ্যাস ব্যবহার না করে টাকা দিচ্ছে এ বিষয়টা আমাদের কাছে কষ্টদায়ক।’