স্ত্রীকে কটূক্তি করায় যুবককে হত্যা করে লাশ গুম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্ত্রীকে কটূক্তি করায় লিংকন জন রোজারিও (৩৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সাড়ে তিন মাস পর গত শুক্রবার পরিত্যক্ত ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে গলিত লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত যুবক লিংকন জন রোজারিও (৩৮) কালীগঞ্জ থানার সড়িপাড়া এলাকার মৃত লিও রোজারিওর ছেলে। গ্রেপ্তার রেক্সি বাবু রোজারিও (৪৩) একই এলাকার মুকুল রোজারিওর ছেলে।

গতকাল শনিবার সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, কিছুদিন আগে লিংকন জন রোজারিও রেক্সি বাবু রোজারিওর স্ত্রীকে কটু কথা বলেন। ফলে রেক্সি বাবু রোজারিও লিংকনের ওপর রাগান্বিত হন। গত ১০ জুলাই সকালে রেক্সি বাবু লিংকনকে কৌশলে তার বাড়িতে নিয়ে যান। ওইদিন দুপুরে তার বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। রাতেই নিহতের বাড়ির কাছে দড়িপাড়া এলাকার রেললাইনের পাশে পরিত্যক্ত ডোবায় কচুরিপানার নিচে মরদেহ লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যান রেক্সি বাবু।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম আরও জানান, পরে নিহতের মোবাইল ফোন দিয়ে তার মা-বাবাকে ফোন দিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন রেক্সি বাবু রোজারিও। এদিকে রেক্সি বাবু রোজারিও একই গ্রামের লিংকন জন রোজারিওর সঙ্গে চলাফেরা করতেন বলে নিহতের বাবা মুকুল রোজারিও ছেলের খোঁজে লিংকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তিনি জানতে পারেন, গত ১১ জুলাই বিকেলের পর থেকে লিংকনও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মুকুল রোজারিও বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে নড়াইল সদরের তুলারামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রেক্সি বাবুকে গ্রেপ্তার করে। তার দেখানো জায়গা থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম জাহাঙ্গীর কবীর প্রমুখ। উদ্ধার করা গলিত লাশের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়াসহ পরবর্তী কার্যক্রম চলমান বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।