সাজেকে পর্যটক নেই এক মাস  ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

সম্প্রতি পাহাড়ে সংঘাতের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেক ভ্যালি ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে। ফলে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সেখানে পর্যটক নেই। পরে অবশ্য তিন পার্বত্য জেলায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করেছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।

এ অবস্থায় সাজেকের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের অনেকেই লোকসান কমাতে কর্মচারীদের ছুটিতে পাঠিয়েছেন। আবার অনেক কর্মচারী হারিয়েছেন চাকরি।

সাজেকের পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা জানান, সাজেকে ১১৬টি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। পর্যটকের অভাবে এগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। এ ছাড়া ১৪টির বেশি রেস্তোরাঁয়ও গ্রাহক নেই। এতে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এখানকার ব্যবসায়ীদের। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্যমতে, গত এক মাসে তাদের ক্ষতি হয়েছে ৫ থেকে ৮ কোটি টাকা।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, ‘পর্যটকদের বহনকারী জিপের চালক ও সহকারীদের অলস সময় পার করতে হচ্ছে। সাজেকে স্থানীয় পাহাড়িরা পর্যটকদের কাছে তাদের বাগানের ফলমূল, বাঁশকোড়লসহ হাতে বানানো অনেক কিছুই বিক্রি করেন। তাদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলমূলগুলো পচে যাচ্ছে।’

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, ‘সাজেকের ব্যবসায়ীরা খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমার রিসোর্টে ছয়জন স্টাফ ছিল, তাদের মধ্যে চারজনকে ছুটিতে পাঠিয়েছি। আপাতত দুজন রয়েছেন। এভাবে সবাই বেশিরভাগ স্টাফ ছুটিতে পাঠিয়েছেন। এই কয়েক দিনে আমাদের প্রায় ৫ থেকে ৮ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।’ তিনি শিগগিরই সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এখনো সময় বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তারপরও কখন থেকে পর্যটকরা নিরাপদে পার্বত্য জেলা ভ্রমণ করতে পারবেন, সেই বিষয়ে শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।