নীতিবান অফিসাররা উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে নৌ ও বিমানবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’ খবর বাসস

গতকাল রবিবার বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি থেকে ‘নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ^স্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, সৎ, নীতিবান এবং নেতৃত্বের অনন্য গুণাবলিসম্পন্ন অফিসাররাই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার। এ সময় তিনি যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে যারা সফল হয়েছেন, সেসব অফিসারকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার নির্দেশনা দেন।

পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সৃষ্ট বাংলাদেশে সবাইকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি আরও স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদসহ সব বীর সেনানীকে, যাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় নৌ ও বিমানবাহিনীপ্রধান প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

‘নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা নৌ ও বিমানবাহিনীর উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোকচিত্রে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে তার মূল্যবান মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। পরে তিনি বিমানবাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন।