কাব্যচর্চায় ইসলামের নির্দেশনা

ছন্দবদ্ধ কথামালাকে কবিতা বলে। গভীর চিন্তার মাধ্যমে কবিতায় মনের ভাব ফুটে ওঠে। কাব্য রচনা আল্লাহ প্রদত্ত এক প্রতিভা। মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর গুণকীর্তনে কাব্য রচনা প্রশংসনীয়। কারণ কবিদের সব কথা অহেতুক নয়। অনেক কবিতায় প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাও থাকে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় কোনো কোনো কবিতায় জ্ঞানের কথাও থাকে।’ (আদাবুল মুফরাদ ৮৬৬)

নবীজির কবিতা শ্রবণ : রাসুল (সা.) নিজে কবিতা রচনা না করলেও মাঝে মধ্যে অন্যের লেখা কবিতা শ্রবণ করতেন। আমর ইবনে শারিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদিন আমি রাসুল (সা.)-এর বাহনে সফর সঙ্গী হলাম। তিনি বললেন, তোমার স্মৃতিতে (কবি) উমাইয়া ইবনে আবুস সালতের কবিতার কোনো অংশ আছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আবৃত্তি করো। আমি তখন তাকে একটি লাইন আবৃত্তি করে শোনালাম। তিনি বললেন, বলতে থাকো, তখন আমি তাকে আরও একটি শ্লোক আবৃত্তি করে শোনালাম। তিনি আবার বললেন, বলতে থাকো। শেষ অবধি আমি তাকে একশোটি ছন্দ আবৃত্তি করে শোনালাম।’ (সহিহ মুসলিম ৫৭৭৮)

নবীজির অনুমতি প্রদান : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কবির কবিতার মাঝে সর্বাধিক সত্য বাণী লাবিদের কথা। আর তা হলো আল্লাহ ছাড়া যা রয়েছে সব বাতিল।’ (সহিহ মুসলিম ৫৭৮২) এছাড়া হাসসান (রা.)-কে রাসুল (সা.) কাব্য রচনার অনুমতিও দিয়েছিলেন। কারণ তিনি কবিতার মাধ্যমে মুশরেকদের কথার জবাব দিতেন।

সর্বদা কাব্যচর্চা : কবিদের অধিকাংশই অলীক কল্পনা ও মিথ্যা কুরুচিপূর্ণ কবিতা রচনা করে। যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থাকে গাফেল করে দেয়। এমন দিগ্ভ্রান্ত কবিদের নিন্দায় কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কবিদের অনুসরণ করে তারা, যারা বিভ্রান্ত।’ (সুরা শুআরা ২২৪)

কবিদের মধ্যে অধিকাংশ কবিই প্রশংসা ও নিন্দায় কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির ধার ধারে না। বরং কবিতায় নিজ ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দ অনুযায়ী রায় প্রকাশ করে থাকে। তাছাড়া কবিতা রচনায় তারা অতিরঞ্জন করে ও বাড়াবাড়ি করে এবং কবিত্ব কল্পনায় কখনো এদিক কখনো ওদিক নিরুদ্দেশ ভ্রমণ করতে থাকে। তাই তাতে মিথ্যার ছড়াছড়ি এবং বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা থাকে। কিছু মানুষ দিনভর কাব্যচর্চায় লিপ্ত থাকে। তাদের কোরআন পড়ার সময় হয় না। তাই হাদিসে সর্বদা কাব্যচর্চাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়েছে। হাদিসে এ রকমও বলা হয়েছে যে, শুধু কবিতা দ্বারা পেট পূর্ণ হওয়ার চেয়ে পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হওয়া উত্তম।