কমলার সমর্থকরা ঝুঁকছেন ট্রাম্পের দিকে!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি এক সপ্তাহ। শেষ সময়ে এসে ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আসন্ন নির্বাচনের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচারে। গত রবিবার নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারের এক জনসভায় অংশ নেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমালোচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাবেক প্রেসিডেন্ট। তবে নির্বাচনের আগে সাম্প্রতিক এক জরিপে ট্রাম্প শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। রয়টার্স-ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে অর্থনীতির প্রশ্নে ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকছেন বাইডেনপন্থি ভোটাররা।

অর্থনীতির প্রশ্নে প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসের থেকে ট্রাম্পের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন দেশটির ভোটাররা, যা নির্বাচনের আগে কপালের ভাঁজ বাড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটদের। চলতি মাসে পরিচালিত রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে অর্থনীতি ভুল পথে যাচ্ছে বলে মনে করছে ৬১ শতাংশ ভোটার। অর্থনীতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ভালো বলে মত বেশিরভাগের। রয়টার্সের জরিপে দেখা যায়, অর্থনীতির প্রশ্নে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছে ৪৬ শতাংশ ভোটার আর কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ৩৮ শতাংশ সমর্থন। ফলে সামগ্রিকভাবে এবারের নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, গতবারের নির্বাচনে বাইডেনকে ভোট দেওয়া ভোটাররা এখন ট্রাম্পকে ভোট দিতেই মনস্থির করেছে।

সেই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দেশ-বিদেশে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। আবার নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে গেলে পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে, বিশেষ করে অনেক মার্কিনের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে। ইউগভের নতুন একটি জরিপে দেখা গেছে, এক-চতুর্থাংশের বেশি অংশগ্রহণকারী মনে করছেন, নির্বাচনের ফল কেন্দ্র করে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। ১২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তারা এমন ব্যক্তিদের চেনেন, যারা ট্রাম্প প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে করলে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে পারেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে তিনি জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হন ট্রাম্প। তবে নিজের পরাজয়ের বিষয়টি এখন পর্যন্ত মেনে নেননি ট্রাম্প। পরাজয় মেনে নিতে ট্রাম্পের এই অস্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিভক্তি তৈরি করেছে। ট্রাম্পের আহ্বানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি তার উগ্র সমর্থকরা মার্কিন কংগ্রেস ভবনে ক্যাপিটল হিলে হামলা চালায়।

এদিকে, রবিবার ম্যাডিসন স্কয়ারের জনসভায় ট্রাম্প ও তার মিত্ররা একাধিক অশোভন ও বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। অভিবাসীদের একাধিকবার ‘ভয়াবহ ও রক্তপিপাসু অপরাধী’ বলে কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প। অবৈধ অভিবাসন বন্ধ ও অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা বলেছেন তিনি উপস্থিত জনতাকে। এ ছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে খুবই কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বলে উপহাস করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।

জনসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ট্রাম্পের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের কয়েকজনকেও বর্ণবাদী ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে সমর্থকদের আকৃষ্ট করার প্রয়াস নিতে দেখা যায়। সমাবেশে নিউ ইয়র্কের একসময়ের মেয়র ও ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জিলিয়ানি বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের সময় কমলা হ্যারিস সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়েছেন। কমলা হ্যারিস ফিলিস্তিনিদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে চেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে তার এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। কৌতুক অভিনেতা টনি হিঞ্চক্লিফ বক্তব্যে স্থূল ভাষা ব্যবহার করে নারীদের প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

এদিন ট্রাম্পের সঙ্গে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প। সমাবেশে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবারের নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে মেলানিয়ার দেওয়া প্রথম বক্তব্য এটি। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন মেলানিয়া।

শে^তাঙ্গ আধিপত্যবাদী ও বর্ণবাদী বক্তব্যের জন্য ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচকদের চক্ষুশূল হয়ে আছেন। ম্যাডিসন স্কয়ারে ট্রাম্পের এসব বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমলা হ্যারিস। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের পর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বলেন, সমাবেশটিতে বিপজ্জনক বিভাজন ও অবমাননাকর বার্তার প্রতিফলন ঘটেছে। ট্রাম্পের এই জনসভাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে নাৎসি সমর্থকদের আয়োজিত জনসভার সঙ্গে তুলনা করেছেন ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন।