পরিবারের জন্য পানির পাম্প থেকে পানি আনতে গিয়েছিল শিশু সাজ্জেন ওরফে রহমত (১৩)। গত শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পে তখন মাদক কারবারি দুই গ্রুপের মধ্যে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। গুলির শব্দে আতঙ্কের মধ্যে পড়ে বাসায় ফিরছিল শিশু রহমত। কিছুটা সামনে আসতেই ৮ নম্বর সেক্টরে দুই পক্ষের ছোড়া গুলি রহমতের হাতে, বুকে ও পেটে মোট ৫টি গুলি বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে চিকিৎসা দেন। তবে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যু হয় শিশুটির।
শিশু রহমতের খালাতো ভাই মো. মুরাদ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই মৃত্যুর দায় নেবে কে? অবুঝ শিশু রহমত কী অপরাধ করেছে?’ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের দ্বন্দ্বের বলি হয়েছে তার খালাতো ভাই রহমত। যাদের কারণে তার ভাইয়ের প্রাণ গেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেন হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার এই অনুরোধ।
এদিকে মোহাম্মদপুরে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফেরাতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব একসঙ্গে কাজ করছে। মোহাম্মদপুর এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল, চেকপোস্ট, ব্লক রেইড ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। গত রবিবার রাতে শেরশাহ সুরি সড়ক থেকে চাপাতিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সামনে থেকে একটি ডাকাত দলের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিসি মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, জেনেভা ক্যাম্পে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, সেটি হলো মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার। তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে গ্রেপ্তার অভিযান চলমান। অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শনিবার বিকেলে শিশু সাজ্জেন ওরফে রহমত গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মোহাম্মদপুর থানার সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। এমন অবস্থার জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অগ্রগতির জন্য তারা পুলিশকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেন। এরপর শনিবার রাতেই যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল একই অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।