পদ্মায় নিখোঁজ দুই এএসআই

পদ্মা নদীতে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশের দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কুমারখালী থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুই ইউপি সদস্যসহ আহত হয়েছেন আর চারজন। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ দুই এএসআই হলেন সদরুল হাসান ও মুকুল হোসেন। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি তাদের। ওই ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও জেলেদের তরফে দুই রকমের দাবি করা করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অভিযোগে কয়েকজন জেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে গেলে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে স্থানীয় লোকজন ও জেলেদের অভিযোগ, ইলিশ মাছ লুটপাট করতে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় দুই এএসআই নিখোঁজ হয়েছেন।

জেলেদের ভাষ্য, গভীর রাতে দুই মেম্বার ও ছয় পুলিশ পদ্মা নদীর বেড় কালোয়া এলাকায় নেমে অভিযানের কথা বলে কয়েকজন জেলের কাছ থেকে ইলিশ মাছ জোরপূর্বক নেওয়ার চেষ্টাকালে নদীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিলাইদহের শ্রীখোল এলাকায় দুর্বৃত্তরা পুলিশ ও মেম্বারদের ওপর হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা এসআই নজরুলসহ চার পুলিশ ও দুই মেম্বারকে উদ্ধার করে। পরে দুই এএসআইকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় জেলে এজাহার শেখ বলেন, রাতে পদ্মায় ইলিশ ধরছিলাম। সে সময় ছলিম ও টিটন মেম্বারসহ ছয়জন পুলিশ এসে আমার কাছে থাকা মাছ নিয়ে চলে যায়। মাছ নেওয়ার পরে পুলিশ ফের তাকে মাছ ধরার অনুমতি দিয়ে চলে যায়।

স্থানীয় জেলেদের নেতা ইয়ারুল ইসলাম বলেন, রাত ৩টার দিকে স্থানীয় জেলেরা প্রথমে তাকে ফোন দিয়ে জানায় নদীতে ঝামেলা হচ্ছে। ছলিম ও টিটন মেম্বার এবং পুলিশ এসে জেলেদের কাছ থেকে তেল ও মাছ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। সে খবর শুনে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এরপর ভোর ৫টার দিকে এএসআই সদরুল আমাকে ফোনে বলেন, ভাই আমরা বিপদে আছি সাহায্য করেন। তার ১০ মিনিট পর সদরুলকে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তখন একটি নৌকায় চারজন গিয়ে এসআই নজরুলসহ তিন পুলিশ এবং দুই মেম্বারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। এসআই নজরুলের মাথা ফাঁটা ছিল। তার দাবি, টিটন ও ছলিম মেম্বার জেলেদের মাছ, তেল ও টাকা লুটপাট করতে পুলিশ নিয়ে এসেছিল। আর পুলিশও ছিল সাদা পোশাকে। ৩০-৪০ জন জেলে ডাকাত ভেবে তাদের ওপর হামলা চালায়।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে দুই নৌকার সংঘর্ষে দুই এএসআই নিখোঁজ হয়েছেন। বাকি চারজন সাঁতরে কূলে এসেছিলেন। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

জেলেদের অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, নিখোঁজ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের অভিযান চলছে। এগুলো তদন্তের বিষয়। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।