এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ: তিতার কিংস মুখোমুখি ব্রুজোনের ইস্ট বেঙ্গলের

দুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাচগুলোর উত্তেজনা যেন এক আলাদা মাত্রা যোগ করে। একসময় আবাহনী-মোহামেডান আর ইস্ট বেঙ্গল-মোহনবাগানের ম্যাচগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, আজকের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে সেই দ্বৈরথের ঝলক দেখা যাবে বসুন্ধরা কিংস এবং ইস্ট বেঙ্গলের লড়াইয়ে। ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামের রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচে উন্মাদনার পারদ যে আকাশছোঁয়া হবে, তা বলাই বাহুল্য।

ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইস্ট বেঙ্গলের নতুন কোচ অস্কার ব্রুজোন, যিনি কিছুদিন আগেও ছিলেন কিংসের কোচ। তবে তার বর্তমান দল ইস্ট বেঙ্গল বেশ চাপে রয়েছে, কারণ টানা আট ম্যাচে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে তারা মাঠে নামছে। ব্রুজোনের অধীনে ইতোমধ্যেই দুটো হার এবং একটি ড্র রয়েছে ইস্ট বেঙ্গলের, যদিও গত ম্যাচে চ্যালেঞ্জ লিগে ভুটানের পারো এফসির বিপক্ষে ২-২ ড্র করে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে লাল-হলুদ শিবির।

কিংসের কোচ ভ্যালেরি তিতাও কঠিন সময় পার করছেন। প্রথম ম্যাচেই সাদ উদ্দিনের আত্মঘাতী গোলে নেজমেহর কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে চ্যালেঞ্জ লিগের শুরুটা হতাশাজনক হয়েছে। তিতা জানালেন, "ইস্ট বেঙ্গল ভালো দল। তাদের ভালো কোচ রয়েছে, যিনি আমাদের দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানেন। দুই দলের জন্যই এটি কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে এবং আমাদের জয় খুবই দরকার। আশা করি, সুযোগ এলে আমরা গোল করতে পারব।"

এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে কিংসের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে যাবে, তাই সব খেলোয়াড়ই সজাগ এবং উত্তেজিত। এই ম্যাচ জিততে মরিয়া ইস্ট বেঙ্গল ও বসুন্ধরা কিংসের দুই দলই।

ব্রুজোন বলেন, “গত ছ’বছর ধরে কী হয়েছে সেটা আমি জানি, তবে এখনকার পরিস্থিতি আমার অজানা। ইস্ট বেঙ্গল একটি বড় ক্লাব এবং তাদের খেলোয়াড়রা বেশ প্রতিভাবান। তাদের ভারতীয় কিংবা বিদেশি প্লেয়ার যে কোনো পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।”

বসুন্ধরার ডিফেন্ডার তপুর কথাতেও উঠে এল ম্যাচের গুরুত্ব। তিনি বললেন, “এই ম্যাচ ডু অর ডাই। আমাদের জন্য, ইস্ট বেঙ্গলের জন্যও। পরের রাউন্ডে যাওয়ার জন্য এই ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইস্ট বেঙ্গল যেমন সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে, তেমনই আমরাও নিজেদের উজাড় করে দেব।”

গত মৌসুমে বসুন্ধরার বিরুদ্ধে এএফসি কাপে খেলেছেন হেক্টর ইউস্তে, তিনিও স্বীকার করলেন, "গত বছর বসুন্ধরা কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। তবে এই ম্যাচ সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের এই ম্যাচটি জিততেই হবে, আর সেই প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামব।"

দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দুই বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের প্রত্যাশায় রয়েছেন।