বসুন্ধরা কিংসকে সাফল্যের শিখরে বসানো সেই চিরচেনা জাদুকরের হাত ধরেই এবার ঘুচল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ ২২ বছরের ট্রফি খরা। বাংলাদেশে কিংসদের একের পর এক ট্রফি জিতিয়ে ট্রফি জয়ের যে অভ্যাস অস্কার ব্রুজোন গড়ে তুলেছিলেন, ভারতে গিয়েও সেই চেনা অভ্যাসের কোনো নড়চড় হলো না। স্প্যানিশ এই কোচের মস্তিস্কেই প্রথমবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল ইস্ট বেঙ্গল।
বৃহস্পতিবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে লিগের চূড়ান্ত ও ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে ইস্টবেঙ্গল। একই সময়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান নিজেদের ম্যাচে জিতলেও, গোল ব্যবধানে তাদের পেছনে ফেলে ভারতসেরার মুকুট মাথায় পরেছে অস্কারের শিষ্যরা।
বাংলাদেশ ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের আধিপত্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন অস্কার ব্রুজোন। ঘরোয়া লিগে টানা চারবার কিংসকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই একই ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাসের মন্ত্র তিনি ঢেলে দিলেন ঐতিহ্যবাহী কিন্তু দীর্ঘদিন লিগ শিরোপাবঞ্চিত থাকা ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। লিগের একদম শেষ মুহূর্তে এসে দলের ওপর বিশ্বাস রাখা, খেলোয়াড়দের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটানো এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে টাইব্রেকারে টেক্কা দেওয়ার পেছনে ব্রুজোনের ক্ষুরধার ফুটবল মস্তিস্কই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় যখন আলফ্রেড প্ল্যানাসের গোলে ইন্টার কাশী এগিয়ে যায়, তখন গ্যালারির হাজার হাজার লাল-হলুদ সমর্থকের মনে আবারও দীর্ঘ ২২ বছরের ব্যর্থতার ভূত তাড়া করতে শুরু করেছিল। কিন্তু ড্রেসিংরুমে অস্কার ব্রুজোনের শান্ত অথচ কার্যকর রণকৌশল দ্বিতীয়ার্ধে বদলে দেয় পুরো দৃশ্যপট:
ব্রুজোনের আক্রমণাত্মক কৌশলের সুবাদে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ভুলকে কাজে লাগিয়ে দলকে সমতায় ফেরান ইউসেফ ইজ্জেজারি। এই গোলের মাধ্যমে চলতি মরসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘সোনার বুট’ জিতে নেন এই ফরোয়ার্ড।
ড্র করলে ট্রফি হাতছাড়া হয়ে যাবে—কোচ অস্কারের এই হিসাব মাথায় রেখে অল-আউট আক্রমণে যায় দল। বিপিন সিংয়ের চমৎকার ক্রস থেকে মরসুমের প্রথম ও সবচেয়ে মূল্যবান গোলটি করে ইস্টবেঙ্গলকে চ্যাম্পিয়ন করেন রশিদ।
ম্যাচ শেষে রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথেই যখন গ্যালারিতে বাঁধনভাঙা উল্লাস শুরু হয়, তখন ডাগআউটে অস্কার ব্রুজনের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। ম্যাচের আগের দিনই তিনি দলের ছেলেদের বলেছিলেন শেষ ৯০ মিনিটে নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে, আর খেলোয়াড়রা ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছেন।
শিরোপ জিতেই ব্রুজন জানিয়ে দিয়েছেন, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি তিনি। সব পরিকল্পনা ঠিক থাকলে পরের মৌসুমেও থাকতে আপত্তি নেই তাঁর।
২০২৪-এর অক্টোবরে বসুন্ধরা কিংস ছেড়ে ইস্টবেংগলের দায়িত্ব নেন তিনি। এক মৌসুম পরই এনে দিলেন দলকে ভারতের সর্বোচ্চ লিগের শিরোপা।
সৌদি আরবে প্রথম ট্রফি জিতে কাঁদলেন রোনালদো