ঢাবির ভর্তিতে কোটা সংশোধনের সিদ্ধান্ত, কমিটি গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ৬ ধরনের কোটায় ভর্তি হতে পারেন শিক্ষার্থীরা। তবে এবার কোটা আন্দোলনে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা কোটা নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। তারই প্রেক্ষিতে কোটা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাবিতে বর্তমানে প্রচলিত কোটাগুলো হলো- ওয়ার্ড বা পোষ্য কোটা, উপজাতি বা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী কোটা, হরিজন ও দলিত সম্প্রদায় কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা মুক্তিযোদ্ধার নাতি–নাতনি কোটা এবং খেলোয়াড় কোটা। এ ছাড়া হিজড়া সম্প্রদায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে বিশেষ বিবেচনা প্রাপ্য হন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সবচেয়ে বেশি ৫ শতাংশ, পোষ্য এবং খেলোয়াড় কোটায় নির্দিষ্ট নেই। বাকিগুলোতে ১ শতাংশ কোটা রয়েছে। যারা শুধুমাত্র পাস করলেই ভর্তির সুযোগ পান।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কোনো কোনো সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল কিংবা নাতি নাতনিদের সুযোগ না দিয়ে ১ শতাংশ রাখার পক্ষে মত দেন। কেউ কেউ কোটা সংশোধন করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী উপাচার্যের অনুমোদন ক্রমে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ওয়ার্ড কোটা ও খেলোয়াড় কোটা সংশোধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিনকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রাশেদা এরশাদ নাসির, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া বিশ্ববদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোটা রাখা না রাখার বিষয়টা নিয়ে ভর্তি কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে মতামত দিয়েছেন। এটি নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী কোটা সংযোজন এবং সংশোধন করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, পোষ্য কোটা এবং খেলোয়াড় কোটার বিষয়ে আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আমরা কোটার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।