জাবির মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ গরমিল, স্টোর কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত 

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রমের স্বার্থে মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারের ওষুধের মজুদে গরমিলের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ধারা ৫(ক)(১) অনুযায়ী চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেকুল ইসলাম এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রেজিস্ট্রার অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (কাউন্সিল শাখা) আলাউদ্দিন মোল্লা।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

অন্য একটি অফিস আদেশে বলা হয়, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো. নুর-এ-কামালকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ১০(ক)(২) ধারা অনুযায়ী ২৩ জুলাই পূর্বাহ্ন থেকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্তকালীন সময় তিনি জীবিকা নির্বাহ (সাবসিস্টেন্স) ভাতা হিসেবে সর্বশেষ মূল বেতনের অর্ধেক পাবেন। এছাড়া প্রযোজ্য তদর্থক সাহায্য (অ্যাডহক রিলিফ) এবং অন্যান্য সব ভাতাও বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য হবেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ৩০ জুন থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের হিসাব না মেলার অভিযোগ ওঠে। নিখোঁজ এসব ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৩ হাজার ১১০ টাকা বলে জানানো হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত