দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুুল্লাহ পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে দুই কমিশনার মো. জহুরুল হক এবং আছিয়া খাতুনও পদত্যাগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদকের শীর্ষপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ১০ ধারার বিধান মোতাবেক রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ডাকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। ওইদিন দুপুর ১টার দিকে দুদক থেকে বেরিয়ে যান দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক এবং কমিশনার (অনুসন্ধান) আছিয়া খাতুন। এরপর তারা ৬, ৭, ৮ ও ১১ আগস্ট দুদকে যাননি। তখনই তাদের পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে। পরে অবশ্য ১২ আগস্ট তারা গণপূর্তের একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়ে পদত্যাগ না করার বিষয়টি জানান। যদি ওই মামলার অনুমোদন বাসা থেকে দেওয়া হয়েছিল। আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে তারা নিয়মিত অফিস করতে শুরু করেন। সরকার পতনের ২ মাস ২৪ দিন পর দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা পদত্যাগ করলেন।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল ও প্রসিকিউশন) এবং সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মইদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন কমিশন নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে থাকবেন আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক। কমিটি দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য ছয়জনের নাম প্রস্তাব করবেন। সেখান থেকে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে। তবে দুদকের কাজের গতি ঠিক রাখতে দ্রুত সময়ে কমিশন নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, আইন অনুযায়ী তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে দুদক গঠিত হয়। তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিশনের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। ২০২১ সালের ৩ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহকে দুদক চেয়ারম্যানের নিয়োগ দেয় সরকার। একইদিন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হককে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ১০ মার্চ দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার যোগদান করেন। তাদের ২০২৫ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য কমিশনার (অনুসন্ধান) ২০২৩ সালের ২ জুলাই দুদকে যোগদান করেন।

দুদকের সাবেক একজন মহাপরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা ইচ্ছা করলেই পদত্যাগ করতে পারবেন না। তাদের পদত্যাগ করতে হলে এক মাসে আগে রাষ্ট্রপতিকে নোটিস করতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ১০ (১)-এ ধারায় এটি বলা আছে। সেই আইন অনুযায়ী কোনো কমিশনার রাষ্ট্রপতি বরাবর এক মাসের লিখিত নোটিস প্রেরণপূর্বক স্বীয় পদত্যাগ করতে পারবেন। উপধারা (১)-এর অধীন পদত্যাগ সত্ত্বেও পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনবোধে পদত্যাগকারী কমিশনারকে তাহার দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করতে পারবেন।