গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সাবেক খাদ্য পরিদর্শক জিয়াউর রহমানকে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আরও ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বরখাস্ত করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে খাদ্য অধিদপ্তর।
গতকাল মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ২০২২ সালে জিয়াউর রহমান সাঘাটার বোনারপাড়া খাদ্য গুদামে পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তিন মাসের মধ্যে জিয়াউর সরকারি কোষাগারে জমাদানের কথা হয়েছে। অন্যথায় সরকারি পাওনা আদায় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিয়াউর রহমানের বাড়ি রংপুর সদর উপজেলার কেল্লাবন্দর গ্রামের। অভিযোগের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল খালেক স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এ আদেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় গুদামের তালা-চাবি অরক্ষিত অবস্থায় রেখে গুদাম থেকে পালিয়ে যান। পরে গুদামের মজুদ যাচাইকালে ৭৬ দশমিক ৩৫০ টন চাল, ২৪ দশমিক ৬০০ টন ধান এবং ও দশমিক ৭৫০ (প্রায় এক টন) গম ও চার হাজার খালি বস্তা কম পাওয়া যায়। সব মিলে তিনি সরকারের ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৮ টাকা ক্ষতি সাধন করেন। যা দ-মূলক দ্বিগুণহারে ৯৫ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫৬ টাকা আদায় যোগ্য বলে প্রজ্ঞাপনে দেখানো হয়।
এরপর জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তবে তিনি মামলায় জবাব দাখিল করেননি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ৩ (খ) ও (ঘ) মোতাবেক অসদাচরণ ও দুর্নীতি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।