মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সম্প্রসারিত রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে অনেক স্থানে মসজিদ, স্কুলের সীমানা প্রাচীরসহ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভাঙা পড়েনি এই সড়কের দুপাশে সরকারি জমিতে নির্মিত মার্কেট ও প্রভাবশালীদের বহুতল ভবন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেহেরপুর সওজ কর্র্তৃপক্ষ এসব মার্কেট ও ভবন মালিকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করেন বলেই সেগুলো অক্ষত রাখা হয়েছে। অবশ্য সওজ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদে বিলম্বিত হওয়ার কারণেই নানা কথা হচ্ছে। কিন্তু এসয কথার কোনো ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ)-এর সীমানা চিহ্নিতকরণ জায়গার মধ্যে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহর বাজার, মেহেরপুর শহরের টিঅ্যান্ডটি থেকে ওয়াপদা পর্যন্ত দোকান ও বহুতল ভবন বাড়ি, গাংনীর কাজীপুর, জোড়পুকুরিয়া, বামুন্দী, মোহাম্মদপুরসহ শ্যামপুর, মদনা এবং বাঁশবাড়িয়া বাজারে রয়েছে শত শত ভবন, হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পাকা দোকানপাট। সড়ক প্রশস্তকরণ ও নিরাপদ করার স্বার্থে এই সমস্ত মার্কেট, হোটেল ও বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়নি। অথচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি মসজিদ, স্কুল, কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর এবং কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানঘর ও হাটবাজার। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং অসন্তোষ আছে। তারা কয়েক দফা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে সেগুলো পাত্তা না দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২০২৩ সালের ১ মার্চ থেকে ৪ মার্চ সওজ খুলনা জোনের এস্টেট কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালান। সে অভিযানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে হাত দেওয়া হয়নি প্রভাব শালীদের বহুতল ভবন ও মার্কেটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যে ভবন বা স্থাপনাগুলো এখনো বহাল আছে সেগুলোর সংখ্যা সব মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক। এই সমস্ত ভবন এবং মার্কেট থেকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া (কোনো রসিদ ছাড়াই) আদায় করে সওজ।
গাংনী বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সওজের নথিতে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালের ৩ আগস্ট থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত গাংনী উপজেলা শহরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়ক নিরাপদ রাখতে জমি অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে সওজের এই সমস্ত জমিতে বহুতল বাড়ি, মার্কেট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পাকা দোকানঘর রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সওজের স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী খোন্দকার গোলাম মোস্তফা, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) মিজানুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের যোগসাজশে এগুলো উচ্ছেদ করার কোনো তথ্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আনা হয় না। এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খোন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে বিশেষ করে গাংনী বাজার ও আশপাশে যে সব অবৈধ স্থাপনা আছে সবই আমাদের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তিতে। আমরা এর আগেও একাধিকবার সম্পত্তি উদ্ধার করেছি। বর্তমানে ওইখানে ফোর লেন রাস্তার কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের সব সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, যেহেতু অবৈধ এই সমস্ত স্থাপনা উচ্ছেদে বারবার বিলম্বিত হচ্ছে তাই অনেকেই এটাকে ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে তুলনা করছে। আসলে ঘুষ নিয়ে কাউকে সরকারি জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অফিসের কেউ অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সে ব্যপারেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অচিরেই ভাঙা পড়বে রাস্তার দুপাশে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা।