ভরণ-পোষণের আশ্বাস দিয়ে জমি লিখে নেওয়ার পর প্রতিবন্ধী ভাইবোনকে আর দেখভাল না করার অভিযোগ উঠেছে নিতাই চন্দ্র দে নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। জমি হারিয়ে মানবেতর দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে ফরিদপুরের সদরপুরের চাররশি গ্রামের অসহায় প্রতিবন্ধী স্বপন কুমার ঘোষ ও তার বোন মঞ্জুরানী ঘোষের। স্থানীয়দের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে কোনো রকমে দিন যাচ্ছে তাদের। দুই ভাইবোন রোগাক্রান্ত হলেও চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা নেই তাদের।
প্রতিবন্ধী স্বপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমি ও আমার বোন নিজেদের জমিতে বসবাস করে আসছি। আমাদের মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। আমাদের ২৫ শতাংশ জমি ছিল। আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারি না। আমার বোনেরও অনেক বয়স। আমাদের দেখাশোনার কেউ ছিল না। আমাদের এক দূর সম্পর্কের ভাতিজা নিতাই চন্দ্র দে আমাকে ও বোনকে দেখাশোনা এবং ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানালে বিগত ২০১৮ সালে আমার নামে থাকা জমিটুকু তাকে লিখে দিই। এরপর নিতাই আমাদের কয়েক বছর দেখাশোনা করে। কিন্তু এরপর সে আমাদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। আমরা ভরণ-পোষণের জন্য টাকা চাইলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। ভরণ-পোষণ না পেয়ে আমরা এখন মানবেতর দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে স্থানীয়দের থেকে চেয়ে-চিন্তে খেতে হচ্ছে আমাদের। কোনোদিন না খেয়েও থাকতে হচ্ছে। এখন সে জমি বিক্রি করে দেবে বলে জেনেছি। আমরা এখন কোথায় যাব, কী খাব, কীভাবে বেঁচে থাকব।’
স্বপন কুমারের বোন মঞ্জুরানী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের যতটুকু সম্পত্তি ছিল, তার সবটুকুই নিতাইকে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেখাশোনা করার কথা থাকলেও সে এখন আমাদের দেখছে না। আমার বয়স হয়েছে। কোনো কাজ করতে পারি না। এখন আমাদের ভাইবোনের না খেয়েই মরতে হবে।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নিতাই চন্দ্র দে বলেন, ‘চাচাকে নিঃস্ব করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। আমি বিগত দিনেও আমার চাচাকে ভরণ-পোষণসহ সবকিছু করেছি, আগামী দিনেও করব। তবে এই জমির বিষয়ে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত লাখ লাখ টাকা খরচ করে আমি জমির কাগজগুলো ঠিক করেছি। এরপর আমার চাচা আমাকে দানপত্র দলিলমূলে লিখিতভাবে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন।’