সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। আজ কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় ফেরা সাফজয়ী দলটি বাফুফে ভবনে পৌঁছালে সেখানে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হাতে পুরস্কারের ডামি চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
এ সময় উপদেষ্টা জানান, শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাসভবন যমুনায় সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেবেন।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পুরস্কার দেবে বলে জানা গেছে।
নারী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনকে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্রিকেটের সঙ্গে ফুটবলের বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, 'বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ও বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের মধ্যে কিছু বৈষম্য ও সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে কিছু অভিযোগ আছে। আমরা সেগুলো জেনেছি এবং সেই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে বাফুফের সঙ্গে কথা বলেছি। বিসিবির সঙ্গেও কথা বলছি। এই বিষয়গুলো আমরা দ্রুতই সমাধান করতে পারবো বলে আশা রাখছি। আগামী দিনে বাংলাদেশের নারীরা যেভাবে আন্তর্জাতিক অর্জন ছিনিয়ে আনছে, আশা করি আরও বড় কোন টুর্নামেন্ট, আরও বড় কোন শিরোপা তারা ছিনিয়ে আনবে এবং এ ব্যাপারে যে কোন ধরণে সহায়তা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করার জন্য সর্বোচ্চ সচিচ্ছা আছে।'
ক্রীড়াবিদদের মান বাড়াতে ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গা স্পোর্টস ভিলেজ করার ইচ্ছৈর কথা জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ, 'আমরা বড় একটা স্পোর্টস ভিলেজ গড়ার কথা ভাবছি। যেখানে সবগুলো ফেডারেশনগুলোকে জায়গা করে দিতে পারবো। প্রোপার ফ্যাসেলিটিজ দিতে পারবো। আমি যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলাম সেখানে স্পোর্টস অ্যাকাডেমি দেখেছি এবং স্বপ্ন আছে বাংলাদেশেও যাতে এরকম একটা স্পোর্টস ভিলেজ করতে পারি।'
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বাফুফের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আসিফ, 'আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম যে বাফুফের বাজেট মন্ত্রণালয় আটকে রেখেছিল এবং বাফুফের সাথে মন্ত্রণালয় কিংবা বিসিবি'র যে সাপে নেউলে সম্পর্ক, স্পোর্টসে তো এরকম হওয়া উচিত না। এখানে কোন রাজনীতি হওয়া উচিত না। স্পোর্টসকে একটা ইউনিফাইড জায়গা থেকে দেখতে হবে। আজকে জেতার পর বিসিবি একটা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আমরা স্পোর্টসকে এক জায়গায় দেখতে চাই এবং সার্বিক উন্নয়নে যাতে সবাই এক জায়গায় এসে কাজ করতে পারি, সেটা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।'